০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

হার্ভার্ডে সাইবার হামলায় ফাঁস ৮ লাখ ৫১ হাজার অ্যাকাউন্টের তথ্য

হার্ভার্ড আক্রান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একই ধরনের হামলার শিকার হয় যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া।

হার্ভার্ডে সাইবার হামলায় ফাঁস ৮ লাখ ৫১ হাজার অ্যাকাউন্টের তথ্য

সাবেক শিক্ষার্থী, দাতা, শিক্ষক ও কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য চলে গেছে ডার্ক ওয়েবে। ছবি: হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 01:07 PM

Updated : 05 Nov 2026, 01:07 PM

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে সাইবার হামলায় ৮ লাখ ৫১ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে নাম, ইমেইল ঠিকানা, জন্মতারিখ, ফোন নম্বর, ডাক ঠিকানা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল।

গত বছরের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী ও দাতাদের তথ্য ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনায় এসব তথ্য ফাঁস হয়। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকরেডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি হওয়া তথ্যের একটি অংশ ডার্ক ওয়েবেও প্রকাশ করেছে হ্যাকাররা।

চুরি হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনা শনাক্তকারী ওয়েবসাইট ‘হ্যাভ আই বিন পনড’ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যবস্থার ৮ লাখ ৫১ হাজারটি স্বতন্ত্র ইমেইল ঠিকানা ফাঁস হয়েছে।

ওয়েবসাইটটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ইমেইল ঠিকানার পাশাপাশি দাতা, সাবেক শিক্ষার্থী, তাদের মা-বাবা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক, কর্মী ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ব্যক্তিগত তথ্যও চুরি হয়েছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে হার্ভার্ড বলেছিল, ভয়েস ফিশিং বা ফোনে প্রতারণার মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার এক হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা বিভাগের তথ্যব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে।

এসব ব্যবস্থায় সাবেক শিক্ষার্থী, দাতা, কিছু শিক্ষক ও কর্মী এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের তথ্য ছিল। তাদের স্বামী-স্ত্রী, জীবনসঙ্গী ও মা-বাবার তথ্যও সেখানে সংরক্ষিত ছিল।

হার্ভার্ড তখন বলেছিল, চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে ইমেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর, বাসা ও কর্মস্থলের ঠিকানা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের রেকর্ড, অনুদানের বিবরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল সংগ্রহ ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগসংক্রান্ত জীবনীমূলক তথ্য রয়েছে।

তবে সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, পাসওয়ার্ড, পেমেন্ট কার্ডের তথ্য কিংবা আর্থিক তথ্য ফাঁস হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয়টি দাবি করেছে।

প্রথম দিকে হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি হার্ভার্ড। তবে কিছুদিনের মধ্যেই কুখ্যাত সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ‘শাইনি হান্টার্স’ হামলার দায় স্বীকার করে।

ডার্ক ওয়েবের একটি ফোরামে গোষ্ঠীটি দাবি করে, তারা ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্ত করা যায় এমন তথ্যসহ ১০ লাখের বেশি রেকর্ড চুরি করেছে। এসব তথ্যের মধ্যে অনুদানসংক্রান্ত বিবরণও ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে ১ দশমিক ১ গিগাবাইটের বেশি নথি ফাঁস করে গোষ্ঠীটি।

এর আগে ঠিক কতজনের তথ্য চুরি হয়েছে, তা স্পষ্ট ছিল না। তবে ফাঁস হওয়া নথি বিশ্লেষণের পর ‘হ্যাভ আই বিন পনড’ এখন আক্রান্ত অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৮ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ বলে জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ধারাবাহিক সাইবার হামলা

শাইনি হান্টার্সের হামলায় হার্ভার্ড আক্রান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একই ধরনের হামলার শিকার হয় যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া।

২০২৫ সালের নভেম্বরের শুরুতে ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ায় হামলার দায় স্বীকার করে শাইনি হান্টার্স। গোষ্ঠীটি দাবি করে, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও দাতার তথ্য চুরি করেছে তারা।

তখন পরিচয় প্রকাশ না করা এক হামলাকারী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মীর পেনকি একক সাইন-অন অ্যাকাউন্টে পূর্ণ প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন তারা। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক, সেলসফোর্সের তথ্য, কিউলিক বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম, এসএপি বিজনেস ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা এবং শেয়ারপয়েন্টের নথিতে প্রবেশের সুযোগ পান।

হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যও করে শাইনি হান্টার্স। গোষ্ঠীটি বিশ্ববিদ্যালয়টির নিরাপত্তাব্যবস্থাকে দুর্বল এবং নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়াকে যোগ্যতাভিত্তিক নয় বলে আখ্যা দেয়।

ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো ইমেইলে গোষ্ঠীটি দাবি করে, উত্তরাধিকারসূত্রে ভর্তি, দাতা এবং যোগ্যতাহীন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি অযোগ্য লোক নিয়োগ ও ভর্তি করেছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তথ্য সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলে তারা।

প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব ইমেইলকে স্পষ্টতই ভুয়া ও প্রতারণামূলক বলে দাবি করেছিল। পরে অবশ্য হামলার ঘটনা স্বীকার করে তারা।

এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানায়, কর্মীরা দ্রুত আক্রান্ত ব্যবস্থাগুলো বন্ধ করে দেন এবং পরবর্তী অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকান। তবে তার আগেই হামলাকারী বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে আপত্তিকর ও প্রতারণামূলক ইমেইল পাঠানোর পাশাপাশি কিছু তথ্য চুরি করতে সক্ষম হয়।

কী ধরনের তথ্য চুরি হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানায় বিশ্ববিদ্যালয়টি।

ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া আরও বলেছে, এ হামলা চালানো হয়েছে সোশাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে। অধিকাংশ কর্মীর জন্য বহুধাপ যাচাইকরণ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক হলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা এ নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতেন।