Published : 26 Jan 2026, 07:48 PM
কুমিল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে চাচাকে হত্যার দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে চাঁদপুরের একটি আদালত। এ ছাড়া মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এক আসামি।
সোমবার বিকালে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কুহিনুর বেগম।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মো. সারোয়ার আলম (৩২) কুমিল্লা জেলা সদর দক্ষিণ থানার রাজাপাড়া এলাকার কাজীপাড়া গ্রামের সফর আলী বাড়ির মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী। অব্যাহতি পাওয়া নুরে আলম মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি সারোয়ারের ভাই।
হত্যার শিকার মো. ছিদ্দিকুর রহমান ছিদ্দিক (৩৭) একই বাড়ির হাজী আমির হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
মামলার বরাতে পিপি কুহিনুর বেগম বলেন, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রাঢ়া রাজাপুরা চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি কালো ড্রাম পাওয়া পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ড্রাম খুলে ভেতরে ছিদ্দিকের লাশ পায়।
এ ঘটনায় শাহরাস্তি থানার তৎকালীন এসআই মো. আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন। এর আগে ছিদ্দিকের স্বজনরা কুমিল্লা দক্ষিণ থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেই জিডি ধরে ছিদ্দিককে শনাক্ত করেন স্বজনরা।
তিনি বলেন, পরে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুরের পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান। তদন্তের এক পর্যায়ে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার মিয়ার বাজার এলাকা থেকে সারোয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তদন্ত শেষে পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর ২০২১ সালের ২ অক্টোবর দুইজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন বলে জানান পিপি কুহিনুর বেগম।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়িতে চলাচলের রাস্তা না দেওয়ায় ছিদ্দিককে হত্যার পরিকল্পনা করেন সারোয়ার। ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা দক্ষিণ থানার চাঁদপুর এলাকায় ইতালি প্রবাসী মাহবুবুর রহমান শামীমের বাড়ির চতুর্থ তলায় ছিদ্দিককে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে তাকে প্রথমে আটকে রাখা হয়। পরে রাতে মারধর ও শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। সেখান থেকে পরদিন লাশ ড্রামে ভরে ভাড়া করা পিকআপ ভ্যানে করে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে নিয়ে ফেলা হয়।
২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানান পিপি কুহিনুর বেগম।
অপর একটি ধারায় একই আসামিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী।
মামলায় আসামিপক্ষে আনজীবী ছিলেন রেজাউল করিম শাওন।