সাদুল্লাপুরের ইউএনও বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া এবং যাত্রী হয়রানি না করতে অভিযান চালিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
Published : 05 Apr 2025, 04:27 PM
ঈদের সরকারি ছুটি শেষে রোববার খুলছে অফিস-আদালত। রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। গাইবান্ধার পরিবহন কাউন্টারগুলোতে শনিবার সকাল থেকেই মানুষের ভিড় বেড়েছে।
এই সুযোগে ঢাকাগামী বাসগুলো অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এ কারণে, অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পিকআপে করে যাত্রা করছেন।
সরজমিনে দুপুরে সাদুল্লাপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, কর্মজীবী শত শত মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসস্টান্ডে বসে আছেন। তারা জানান, সাদুল্লাপুর থেকে ঢাকাগামী প্রায় সব বাসেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি নিচ্ছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা সদর থেকে ঢাকার নিয়মিত ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
একই চিত্রের কথা জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকেও।
পোশাক কারখানায় চাকরি করেন সাদুল্লাপুরের ফারুক মিয়া। ঈদ শেষে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ‘মায়ের আশীর্বাদ’ পরিবহনের বাসে ঢাকায় ফিরছেন।
তিনি বলেন, “আমি সাদুল্লাপুর থেকে ঢাকা ফিরছি। সাদুল্লাপুর থেকে কোনো বাসেই ১২০০ টাকার কমে টিকিট দিচ্ছে না। অনেক অনুরোধ করে ১১৫০ টাকা করে দুইটি টিকিট নিয়েছি।”
ভাড়ার নীতিমালা এবং পরিবহন মালিকদের জবাবদিহি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ চাকরিজীবী।
পোশাক শ্রমিক আব্দুল হালিম ঈদের ছুটিতে এসেছিলেন সাদুল্লাপুরের গ্রামের বাড়িতে। তার সঙ্গে কথা হয় সাদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ডে। তিনি ঢাকায় ফিরছেন ‘সূর্য পরিবহন’ নামের একটি বাসে।
তিনি বলেন, “এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও দুর্ভোগহীন হয়েছে। তবে, হতাশার কথা হল, পরিবহনগুলো যার কাছ থেকে যেমন পারছে তেমন ভাড়া নিচ্ছে। ৫০০ টাকার ভাড়া ১২০০ টাকা নিয়েছে। আমাদের তো উপায় নেই, যেতে হবে।”
অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সূর্য পরিবহনের সাদুল্লাপুর কাউন্টারের ম্যানেজার বিটুল মিয়া বলেন, “ঢাকা থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাসগুলো ফিরে আসছে। এ কারণে একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে।”
‘মায়ের আশীর্বাদ’ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মো. স্বপন খান একই সুরে বলেন, “ঈদের সময়, এ কারণে একটু বেশি নেওয়া হয়।”
উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টিকে ‘নৈরাজ্য’ বলে বর্ণনা করেন গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু।
তিনি বলেন, “গাইবান্ধা সদরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নন-ব্র্যান্ডের বাসে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। এ ছাড়া খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের বাসগুলো বিদ্যমান ভাড়ায় যাত্রী বহন করলেও কোনো কোনো পথে যাত্রী সাধারণকে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বেশি দূরত্বের টিকিট কিনতে বাধ্য করছে।
“এতে করে নিম্ন আয়ের, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, দিনমজুর- এ ধরনের মানুষজনকে পণ্যবাহী ট্রাক-পিকআপে স্বল্প ভাড়ায় যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন।”
স্থানীয় সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু বলেন, “বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ পাচ্ছে প্রশাসন ও পুলিশের তদারকি না থাকার কারণে।”
জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মনের মোবাইল ফোন নম্বরে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি মো. তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া এবং যাত্রী হয়রানি না করতে অভিযান চালিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও যদি যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়; খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ জানান, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।