Published : 08 Aug 2025, 08:08 PM
গাজীপুরে হত্যার শিকার সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে চোখের জলে বিদায় দিয়েছেন স্বজনরা। তাকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাকে শায়িত করা হয়। এ সময় স্বজন-প্রতিবেশীদের কান্নায় পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
এর আগে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে তুহিনের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। তাকে একনজর দেখতে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন।
স্বজনরা বলছিলেন, গাজীপুর থেকে শুক্রবার বাড়িতে ফিরে বাবা-মায়ের সঙ্গে দুপুরে খাবার খাওয়ার কথা ছিল তুহিনের। তিনি ঠিকই ফিরেছেন, তবে নিথর দেহে।
বাদ মাগরিব সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, “এভাবে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তুহিনরা পাঁচ ভাই। প্রত্যকেই কাজের তাগিদে সিলেট ও গাজীপুরে থাকেন। তারা কেউ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। তুহিন খুব ভাল ছেলে ছিল। নিয়মিত বাবা-মায়ের সেবা ও খোঁজখবর নিতেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”
স্থানীয় কবিরুল ইসলাম নামে এক যুবক বলেন, “তুহিনরা পাঁচ ভাই খুব ভাল ছিল। সবাই কাজের তাগিদে বাড়ির বাইরে থাকেন। আমার কথা বিশ্বাস না হলে এলাকায় অনেক লোক আছে, তাদের কাছে তুহিন ও তার পরিবারের বিষয়ে জানতে পারেন। সবাই একই কথা বলবে, তুহিন খুব ভাল ছেলে ছিল। সত্যিই ভাল মানুষ বেশি দিন বাঁচে না।”
একই এলাকার বাসিন্দা আক্রাম হোসেন বলেন, “তুহিন সাংবাদিকতা পেশায় খুব ভাল করেছিল। অল্প সময়েই সে বেশ নাম-ডাক করেছিল। তবে, তারা পাঁচ ভাইয়ের মাঝে তুহিনের আয়-রোজগার বেশি ছিল। সেই সংসারের হাল ধরেছিল। এখন তার স্ত্রী মুক্তা আক্তার দুই সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়ে গেলেন। সরকার যদি সহায়তা করে, তাহলে তুহিনের পরিবারের জন্য খুব ভাল হবে “
বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে কয়েকজন অস্ত্রধারী।
শুক্রবার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে।
গাজীপুরে চৌরাস্তা এলাকায় বাদ জুমা সাংবাদিক তুহিনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।

ভাটিপাড়ার হাসান জামাল ও সাবিহা খাতুন দম্পত্তির পাঁচ ছেলে আর দুই মেয়ের মধ্যে তুহিন ছিল সবার ছোট। ২০০৫ সাল থেকে তিনি পরিবার নিয়ে গাজীপুরের চান্দনা এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজের পাশাপাশি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির কাজও করতেন।
আসাদুজ্জামান তুহিন স্ত্রী মুক্তা আক্তার ছাড়াও সংসারে দুই ছেলে তৌকির (৭) ও ফাহিমকে (৩) রেখে গেছেন।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার রবিউল ইসলাম বলেন, “সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাদশা মিয়া নামে এক ব্যক্তি চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে এক নারীর সঙ্গে বিবাদে জড়ান।

“এ সময় বাদশা মিয়া ওই নারীকে আঘাত করেন। তখন একদল দুর্বৃত্ত নারীর পক্ষ নিয়ে ধারালো চাপাতি হাতে বাদশা মিয়াকে আঘাত করলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। আর এ ঘটনাটি রাস্তার পাশ থেকে মোবাইলে ভিডিও করছিলেন সাংবাদিক তুহিন।”
উপ-কমিশনার বলেন, “তখন সন্ত্রাসীরা তুহিনকে দেখে ফেলে ভিডিও মুছে ফেলতে বলে। তবে তুহিন ভিডিও মুছতে অস্বীকার করলে তাকে ধাওয়া দেয় সন্ত্রাসীরা। এসময় তুহিন দৌড়ে পালাতে থাকে। সন্ত্রাসীরাও তার পিছু নিয়ে ধাওয়া করে।
“এক পর্যায়ে চান্দনা চৌরাস্তার মসজিদ মার্কেটের সামনে একটি দোকানের কাছে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তুহিনের মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।”
আরও পড়ুন:
'কী অপরাধ আমার ছেলের', প্রশ্ন সাংবাদিক তুহিনের বাবার
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যায় মামলা, আটক ৫
সাংবাদিক তুহিন হত্যা: খাগড়াছড়ি ও কিশোরগঞ্জে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ
সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচার দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন