Published : 02 Jul 2025, 01:29 PM
মাগুরায় ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক করে নির্যাতন এবং বিনা বিচারে ১৬৮ দিন কারাবন্দি রাখার অভিযোগে সাবেক পুলিশ সুপার, ওসি, ইউএনওসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় সাত বছর পর সোমবার মাগুরা সদর আমলি আদালতে অভিযোগটি করেন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল রুমন।
পরে মঙ্গলবার আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার তদন্তে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মিনহাজ উদ্দিন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে- মাগুরার তৎকালীন পুলিশ সুপার খান মো. রেজোয়ান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, এসআই আল এমরান, এসআই বিশ্বজিত, কনস্টেবল পার্থ রায় এবং মাগুরা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি মীর মেহেদী হাসান রুবেল এবং মুরাদুজ্জামান মুরাদ নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে।
মামলার বাদী ফয়সাল রুমন মাগুরা শহরের ভায়না গ্রামের মৃত ইন্তাজ শিকদারের ছেলে।
সাবেক এই ছাত্রদল নেতার অভিযোগ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটাক্ষ করে ফেইসবুকে ছবি পোস্ট করার অভিযোগে ২০১৮ সালের ১৮ অগাস্ট তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
পুলিশ তাকে আটকের পর নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন চালায়। এতে তার স্পাইনাল কর্ড এবং মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়।
পরদিন ফয়সাল রুমনের নামে সদর থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলার আসামি হিসেবে তাকে ১৬৮ দিন বিনাবিচারে কারাবন্দি রাখা হয়। মামলাটিকে মিথ্যা ও সাজানো দাবি করে তাকে নির্যাতনের বিচার চেয়েছেন তিনি।
তাছাড়াও মিথ্যা মামলার কারণে তার ৫০ কোটি টাকার মানহানির ঘটনা ঘটেছে বলেও মামলায় অভিযোগ করেছেন ফয়সাল।
আইনজীবী কাজী মিনহাজ উদ্দিন বলেন, একটি মিথ্যা মামলা সাজিয়ে নির্যাতন করায় বাদী সারা জীবনের মতো পঙ্গু হয়ে গেছেন।
“সোমবার মামলায় বাদী সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত ছয় কর্মকর্তাকে আসামি করেছেন বিধায় আদালতের বিচারক সবদিক বিবেচনা শেষে মঙ্গলবার মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্যে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।”