Published : 10 Mar 2026, 02:52 PM
রোজার ঈদ সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিপণিবিতানে জমে উঠেছে কেনাকাটা। পছন্দের পোশাক কিনতে ইফতারের পর থেকেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। ফলে দোকানিদের দম ফেলার ফুরসত নেই। দরজি বাড়িতেও বেড়েছে ব্যস্ততা।
আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে আসেন। শহরের প্রধান সড়ক কাউতলী থেকে মেড্ডা পর্যন্ত রাস্তার আশপাশে বেশির ভাগ বিপণিবিতানের অবস্থান। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত শহরের আশিক প্লাজা মার্কেট, পৌর আধুনিক সুপার মার্কেট, পুরাতন কোর্ট রোডের সিটি শপিং সেন্টার, ফরিদ উদ্দিন আনোয়ার টাওয়ার, ফরিদুল হুদা সড়কের বি.বাড়িয়া টাওয়ার, সড়ক বাজারের নিউমার্কেট ও টানবাজারের হকার্স মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।
তুলনামূলক নারী ক্রেতার উপস্থিতি বেশি। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন বিপণিবিতানে আলোকসজ্জার পাশাপাশি বাহারি রঙের পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
দেড় বছরের ছেলে মীর ফারাজ, ১৪ বছরের মেয়ে মীম আক্তার, ১১ বছরের মেয়ে মোনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে কুয়েত প্রবাসী মীর শাকিলের স্ত্রী মীর মুন্নি আক্তার ফরিদ উদ্দিন টাওয়ারের লাইক ফ্যাশন হাউজে এসেছেন কেনাকাটা করতে। আলাপকালে তিনি বলেন, “ছোট ছেলেমেয়ের জন্য কাপড় কিনতে পেরেছি; বাকি রয়েছে বড় মেয়ে। ঘুরে ঘুরে দেখতেছি যদি পছন্দ হয় কিনে নেব। এ বছর কাপড়ের দাম অনেক বেশি।”

তিনি বলেন, “স্বামী কুয়েত থাকে, সেখানেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। যখন স্বামীর সাথে কথা বলি, তখন সে দেশের যুদ্ধের কথা শুনলে ভয় লাগে। বাচ্চারা তো আর যুদ্ধ বুঝে না, তাদের জন্যই মার্কেটে আসতে হয়েছে।”
পুরাতন কোর্ট রোডের ফরিদ উদ্দিন আনোয়ারা টাওয়ারের চতুর্থ তলায় দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম আছে। এর মধ্যে শৈশব, দর্জিবাড়ি, ম্যানস ওয়ার্ল্ড, আমব্রেলা, ক্লোজেন ও ম্যানস ওয়ার্ল্ড ট্রেন্ডি উল্লেখযোগ্য। তৃতীয় তলায় আছে লাইক ফ্যাশন ওয়্যার ও নাইন জিরো।
এ ছাড়া এফএ টাওয়ার সংলগ্ন এলেন কোর্ট ভবনের নিচতলায় এপেক্স, সড়ক বাজারে প্লাস পয়েন্ট, ডা. ফরিদুল হুদা সড়কে ইনফিনিটি মেগামল এবং পাইকপাড়া এলাকায় জেন্টল পার্কের শোরুমেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়।
সড়ক বাজারের বিলাসী মেগা মল, শাড়ি বিচিত্রা, রং বেরং, কমলালয় ও ইলোরাতেও ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ছোট শিশু থেকে শুরু করে বড়দের ফারসি কামিজ, গাউন, আফগানি থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা ও পার্টি পোশাকের চাহিদা বেশি। ফারসি কামিজ চার থেকে ১৫ হাজার টাকা, গাউন তিন থেকে ১৪ হাজার টাকা, থ্রি পিস দেড় থেকে ১২ হাজার টাকা এবং লেহেঙ্গা চার থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া ছেলেশিশুদের শার্ট ৬০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা এবং মেয়েশিশুদের পোশাক এক হাজার ২০০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের দেশি পাঞ্জাবি দেড় হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা এবং ভারতীয় পাঞ্জাবি দুই হাজার ১৫০ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লাইক ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী আরমানুল হক বলেন, “ঈদের বাজারের বেচাকেনা মোটামুটি ভালো। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। মেয়েদের ফারসি কামিজ, গাউন, থ্রি পিস ও লেহেঙ্গার পাশাপাশি পাকিস্তানি থ্রি পিস ও ভারতীয় বুটিকসের চাহিদা বেশি। মেয়েশিশুদের আফগানি পোশাক, হীরামান্ডি ও ফারসি কাটও ভালো বিক্রি হচ্ছে। পুরুষদের পাঞ্জাবি বিক্রি ভালো।”
মার্কেটের নিচতলায় স্বপ্নলয় লেডিস অ্যান্ড বেবি ফ্যাশনের মালিক আনোয়ার হোসাইন বলেন, “সাধারণত শবে বরাতের পর থেকেই ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়। কিন্তু এবার নির্বাচনের কারণে সেটি দেরিতে শুরু হয়েছে। প্রবাসীদের টাকা এলেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাপড়ের ব্যবসা জমে ওঠে। গত কয়েকদিন বেচাবিক্রি ভালো।”
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। মানুষ এখন সহজে টাকা খরচ করতে চাইছেন না।”