Published : 11 Apr 2026, 12:40 AM
লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় বাংলাদেশি নারী দিপালী খাতুনের মৃত্যুতে ফরিদপুরে তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, অস্বচ্ছল সংসারের ভাগ্য বদলাতে বিদেশে পাড়ি জমানো দিপালীকে হারিয়ে তারা দিশেহারা।
শুক্রবার দিপালীর ছোট বোন লাইজু খাতুন বলেন, “আমার আপা যেখানে থাকতেন, সেই বাসার পাশের একটি দোকান থেকে প্রায়ই বাজার করতেন এবং সেখান থেকেই দেশে টাকা পাঠাতেন।
“বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই দোকান মালিক হোয়াটসঅ্যাপে কল করে আপার মৃত্যুর খবর দেয়। এরপর থেকে আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
লেবাননে একটি পরিবারের সঙ্গে থেকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন ৩৪ বছরের দিপালী। বৈরুতের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলের বিমান হামলা চালালে দিপালী আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে মারা যান।
শুক্রবার এক শোকবার্তায় দিপালী মৃত্যুর খবর জানায় লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস।
দিপালী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের চর হাজিগঞ্জ গ্রামের শালেপুর এলাকার শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে চতুর্থ সংসারের স্বচ্ছলতা আনতে ২০২৪ সালে গৃহকর্মী হিসেবে লেবাননে পাড়ি জমান দিপালী।
লাইজু বলেন, সবশেষ ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় বিকালে দিপালীর সঙ্গে কথা হয়। এরপর থেকেই তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তার লাশ বৈরুতের রফিক হারিরী হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।
দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে একই হামলায় দিপালীর কফিল (চাকরিদাতা) এবং তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। কফিলের একজন পরিচিত প্রতিবেশীর বরাতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ফরিদপুরে দিপালীর এলাকার ইউপি সদস্য শেখ ফালু বলেন, “পরিবারটি খুব অসচ্ছল। মেয়েটি অনেক কষ্ট করে বিদেশে গিয়ে কাজ করছিল। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।”
চরভদ্রাসনের ইউএনও সুরাইয়া মমতাজ বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
“আমরা সার্বিকভাবে পরিবারটির পাশে আছি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।”
আরও পড়ুন-