Published : 23 Sep 2025, 01:17 PM
রংপুর জেলায় আমন ধানে ‘মাজরা’ পোকা ও গোড়া পচা রোগের আক্রমণে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কীটনাশক ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।
একদিকে মজুরি খরচসহ তেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধি, তার ওপর ধানগাছে পোকা ও পচন ধরায় কপালে হাত পড়েছে কৃষকদের। এবার ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে।
রোপা আমনে মাজরা পোকা ও গোড়া পচা রোগ রোধে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, রোপা আমন ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ। পোকা থেকে ফসল রক্ষায় বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ছিটিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এছাড়া গোড়া পচন রোগের কারণে ধানগাছ প্রথমে হলুদ ও পরে শুকিয়ে বাদামি রঙ ধারণ করছে।
কৃষকরা বলছেন, সময়মতো পোকা দমন করতে না পারলে এবার রোপা আমন উৎপাদন ব্যাহত হবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বালা কুমার এলাকার কৃষক রমিজ মিয়া বলেন, “ধান গাছে পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। কীটনাশক দিয়ে কাজ হচ্ছে না। আর যেভাবে ধানে পচন শুরু হয়েছে, তাতে মনে হয়, আবাদ ভালভাবে হবে না।”
কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর উইনিয়ানের মাঝিপাড়া গ্রামের চাষি বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, “আমনে মাজরা পোকা ও গোড়া পচা রোগ দেখা দিয়েছে। ধানের শিষ না আসতেই ধানের এমন রোগ দেখা দেওয়ায় হতাশ আমরা।
“বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ছিটিয়েছি। পোকা কিছুটা কমলেও এখনও সম্পূর্ণভাবে যায়নি। আর গোড়া পচা যদি দূর না করা যায়, তাহলে ধানের ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়তে হবে।”

আমনে গোড়া পচা রোগ ও মাজরা পোকার আক্রমণ নিয়ে ভোগান্তি পড়ার কথা মিঠাপুকুর উপজেলার ধাপের হাট এলাকার আমন চাষি রশিদ মিয়াও জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এমনিতেই মজুরি খরচসহ তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার গোড়া পচা রোগ ও মাজরা পোকার আক্রমণ। বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক প্রয়োগ করছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।”
সদর উপজেলার হরিদেব পুর গ্রামের আমনচাষি রহমত আলী বলেন, “আমার ধানেও রোগ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক দিচ্ছি, দেখি কী হয়।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রংপুর কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরে অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহমুদা খাতুন বলেন, গোড়া পচা এবং পোকার আক্রমণ থেকে ধানগাছ রক্ষায় কৃষককে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ধান ক্ষেত থেকে ২০০-৩০০ মিটার দূরে ‘আলোক ফাঁদ’ বসিয়ে মাজরা পোকা মেরে ফেলা যায়।
পাশাপাশি কীটনাশক সঠিকভাবে ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।