মুন্সীগঞ্জে পদ্মার রুদ্রমূর্তি, চলছে ভাঙনের তাণ্ডব

বালুদস্যু ও তাদের রক্ষাকারীদের চিহ্নিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Sept 2022, 05:31 PM
Updated : 9 Sept 2022, 05:31 PM

পদ্মার ভাঙনে মুন্সীগঞ্জ সদরের সরদারকান্দি ও শম্ভু হালদারকান্দি গ্রামে একের পর এক বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও গাছপালা। ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছেন।

অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণে নদীর গতিপথ পাল্টে জনপদে ঢুকে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।

সরকারি হিসাব বলছে, নদী ভাঙনে এ জনপদের ৮১ হেক্টর এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। গত ১৫ দিনে এক কিলোমিটার এলাকার ১৮৬টি বাড়িঘর তলিয়ে গেছে পদ্মায়।

শুক্রবার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) স্নোহাশীষ দাস।

এ সময় মৃণাল কান্তি দাস বলেন, “ভাঙনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা এবং গৃহহীনদের আশ্রয় দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি বালুদস্যু ও তাদের রক্ষাকারীদেরও চিহ্নিত করা হবে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে নিজস্ব অর্থায়নে আমরা যে পদ্মা সেতুটা বাস্তবায়ন করলাম, যদি অপরিকল্পিতভাবে লুটেরা দস্যুদের দ্বারা বালু উত্তোলন করতে থাকি তাহলে কোনো এক সময় পদ্মা সেতুও বিপদগ্রস্ত হবে। শুধু পদ্মা সেতুই নয়, মেঘনা সেতু, মুক্তারপুর সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

যদি এখনই ‘অপরিকল্পিত’ এই বালু উত্তোলন বন্ধ না হয় তাহলে মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুর পরগণা ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নদীর নাব্যতা রক্ষায় প্রয়োজনে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিকভাবে বালু উত্তোলনের আহ্বান জানিয়ে মৃণাল কান্তি বলেন, “বালুদস্যুরা তো নদীর বালু কাটে না, মানুষের ফসল কাটে। আমরা এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখান থেকে পাঁচ মিটারের মধ্যে নদীর গভীরতা যদি ৭০, ৮০, ১০০, ২০০, ৬০০ ফুট হয় তাহলে এ জায়গাটা কীভাবে রক্ষা হবে?” প্রশ্ন রাখেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গৃহহীনদের তালিকা করতে বলা হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় এ সংসদ সদস্য বলেন, “যাদের ঘরবাড়ি নেই, অনতিবিলম্বে তাদের একটা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে; খাবারের সমস্যা থাকলে সেটার ব্যবস্থাও করব। সে জন্য মন্ত্রণায়ের মাধ্যমে এবং স্থানীয়ভাবে আমরা সচেষ্ট থাকব।”

এ ব্যাপারে তিনি শনিবার ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানান।

সদর উপজেলার শিলই ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করার কথা জানিয়ে মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, “প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখন ভাঙন চলছে। নদীর তীব্র স্রোত এবং পানির গভীরতা বেশি থাকার কারণে জিও ব্যাগ ফেলেও এখন সুবিধা করা যাবে না। এই স্থানে ভাঙন রোধের জন্য নয় কোটি টাকার একটি চাহিদাপত্র পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে আগামী শুস্ক মৌসুমে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়া হবে।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) স্নেহাশীষ দাস বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি যখনই আমাদের নজরে আসছে তখনই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। অনেকগুলো বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে এবং জরিমানাসহ তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে আমাদের সকলের সচেতন হতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমরা তা নিচ্ছি। এখন সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো- ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোকে রক্ষা করতে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।”

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে বলেও তিনি মনে করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক