Published : 19 Jul 2026, 01:45 PM
নাটোরের লালপুরে একদিনের ব্যবধানে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তাদের বাবা।
খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও বিষয়টিকে ‘রহস্যজনক’ বলছে পুলিশ।
উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া নতুন পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম।
মারা যাওয়া শিশুরা হলো ৮ বছরের তুহিন ও তার ছোট ভাই ৪ বছর বয়সি তুষার। তারা ওই গ্রামের মরজেম আলীর (৩৫) সন্তান। মরজেম আলীও বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে গত ১৩ জুলাই মরজেম আলীর স্ত্রী তুলি বেগম বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর থেকে মরজেম আলী তার দুই ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে থাকছিলেন। নিজেই রান্না বান্না করে খাচ্ছিলেন।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে মরজেম আলী ও তার ছোট ছেলে তুষার আলুভর্তা দিয়ে ভাত এবং বড় ছেলে তুহিন কলা-চিড়া খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
পরে রাত ৩টার দিকে হঠাৎ তুহিন বমি করতে শুরু করলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান মজরেম। তবে সেখানে চিকিৎসক তুহিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে শুক্রবার সকালেই তুহিনের দাফন সম্পন্ন হয় আর দুপুরে ছোট ছেলে তুষারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বমি ও অচেতনতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাকেও দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তুষারের মৃত্যু হয়।

পরে ছোট ছেলের লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরই মরজেম আলীও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
সেখান থেকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু এবং এরপরই তাদের বাবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে, বিষয়টি রহস্যের সৃষ্টি করেছে। ছোট ছেলে তুষারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
“প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে দুই সন্তানের মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”
এই ঘটনায় এর মধ্যে লালপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।