Published : 03 Jun 2026, 09:54 PM
লক্ষ্মীপুরের বশিকপুর ইউনিয়নকে নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় যুক্ত না করার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, তারা সদর উপজেলার সঙ্গে থাকতে চান।
বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বশিকপুর ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপির অনুলিপি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট আরও ১০টি কার্যালয়ে পাঠান আয়োজকরা।
মানববন্ধনে ‘জামাই-বউয়ের দাবি একটাই, সদরে আছি, সদরেই থাকতে চাই’, ‘নিজের ঘর ছেড়ে পরের ঘরে যাবো না, সদর উপজেলাতেই থাকবো’- এসব স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন বশিকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এতে বক্তব্য দেন সদর (পশ্চিম) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন, বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সেক্রেটারি মমিনুল হক, বশিকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন আমির মাইন উদ্দিন, সাংবাদিক এস এস আওলাদ হোসেন, ব্যবসায়ী মোশতাক আহমেদ সোহাগ, ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. মোস্তফা ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহবার হোসেন জনি।
বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা লক্ষ্মীপুর সদরে ছিলাম, সদর উপজেলাতেই থাকতে চাই। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের একটি বশিকপুর। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সঙ্গে চন্দ্রগঞ্জের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এজন্য বশিকপুরকে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় স্থানান্তর করা হলে আমরা সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবো।”
বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান খোকন বলেন, “চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা হোক এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে বশিকপুরকে সদর উপজেলায় রাখতেই হবে। এখানকার ৯৯ শতাংশ মানুষই সদর উপজেলাতে থাকতে চায়। আমাদের সদরে যেতে ছয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। আর চন্দ্রগঞ্জ গেলে আমাদেরকে ১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। এটি আমরা কখনো মানবো না।”
সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে বশিকপুরসহ নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ১৯ মে মন্ত্রপরিষদ বিভাগ চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সোমবার সদর উপজেলা ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নের নম্বর পুননির্ধারণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।