নরসিংদীতে ট্রাক শ্রমিকদের ৩ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে মামলা
আইনজীবী বলেন, বিচারক মামলাটি তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।
নরসিংদী জেলা ট্রাক-ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। বিচারক অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা-ডিবিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার সংগঠনের চারবারের নির্বাচিত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মেহনাজ সিদ্দিকীর আদালতে মামলাটি করেন বলে জানান আইনজীবী মনসুর আলী শিকদার।
মামলায় সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি খোরশেদ আলম তাবিজ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মৃধা (৫০), কোষাধ্যক্ষ মো. সুলতান (৪৫), সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেজবাহ উদ্দিনের (৪৫) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আইনজীবী বলেন, বিচারক মামলাটি তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।
মামলার বরাতে আইনজীবী বলেন, সংগঠনটি ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে। সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। সংগঠনের সদস্যদের ভর্তি ফি বাবদ জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা এবং প্রতি ৩ বছর পর পর ১ হাজার টাকা করে সদস্য নবায়ন ফি বাবদ চার মেয়াদে মোট এক কোটি ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
তাছাড়া ২০১৮ সালে মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশন থেকে শ্রমিক কল্যাণের জন্য অনুদান হিসেবে পাওয়া যায় আরও ২০ লাখ টাকা। শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন সময়ে আদায় করা আরও এক কোটি টাকাসহ মোট ৩ কোটি টাকা সংগঠনের ফান্ডে জমা থাকার কথা।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, কিন্তু বর্তমানে সংগঠনের ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা নেই। বাদী টাকার হিসাব চাইলে আসামিরা তালবাহানা করতে থাকেন। এর জেরে পরবর্তী সময়ে তাকে খুন ও গুমের হুমকি দেওয়া হয়।
“সংগঠনের সভাপতি অর্থ আত্মসাতে জড়িতদের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে বাধা হয়ে দাঁড়ালে তারা দলবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র করে সংগঠনের সভাপতিকে অবৈধভাবে বরখাস্ত করেন। যা সংগঠন পরিপন্থি।
“তাছাড়া সংগঠনের কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে পরিবারকে মৃত্যুভাতা হিসেবে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরে একজন সদস্যের মৃত্যুভাতাও দেওয়া হয়নি।
“এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য সরকার সংগঠনের যে জমি অধিগ্রহণ করেছে তার পাওনা অর্থও আত্মসাতের পাঁয়তারা চলছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
