Published : 14 Aug 2025, 02:53 PM
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় তলিয়ে গেছে কৃষকের শত শত একর জমির ফসল। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
পানি প্রবাহের খালটি দখল-দূষণে সংকোচিত হয়ে পড়ার কারণে কয়েক বছর ধরে কৃষকের ফসলহানি হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতার পাশাপাশি খালটি সংস্কারে উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের বেড়াবিলের এখনকার চিত্র এমনই। যে দিকেই চোখ যায় শুধু পানি আর পানি।
এক সপ্তাহ ধরে এই বিলে পানিতে নিমজ্জিত। এতে তলিয়ে গেছে কৃষকের শত শত একর জমির আমন ধান। পঁচে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে ধানের চারাগুলো। ধার-দেনা করে ফসল লাগিয়ে এমন অবস্থায় দিশেহারা কৃষক।

কুতুবপুর গ্রামের রাকিবুল হাসান বলেন, “খালে বাঁধ দিয়ে অনেকে মাছ ধরে; যার কারণে পানি প্রবাহিত ঠিক হয় না। এতে মানুষের জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে কয়েকদিন ধরে। খালটি খননে দ্রুত উদ্যোগ নিলে কৃষকের ফসল রক্ষার পাশাপাশি বৃদ্ধি পাবে মাছ ও জীববৈচিত্র্য।
হাসনপুর চৌরাস্তা গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, “আমরা প্রায় দুই জমিতে ধানের চারা লাগিয়েছি। আমাদের স্বপ্ন পানির নিচে ডুবে রয়েছে। ধানগুলো ১৫ দিন আগে লাগানো হয়েছিল। হয়তো আরও দুয়েক দিন পানি থাকলে সম্পন্নভাবে চারা পঁচে গলে যাবে। চোখের সামনে এত বড় ক্ষতি মেনে নিতে পারছি না।”
হাসনপুর গ্রামের হাসিম উদ্দিন বলেন, “খালটি ১৫-২০ বছর আগেও অনেক চড়া ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে খালের পাশে বসতি গড়ে উঠছে। কারও রয়েছে ঝোঁপঝাড়। পানি ধীরগতিতে চলে, যার কারণে একদিন বৃষ্টি হলে তিন লাগে বেড়াবিলের পানি কমতে।
“কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বেড়াবিলে গলা পানি পর্যন্ত হয়েছে। এখন পানি কিছুটা কমছে আর ক্ষতি ভেসে ওঠছে। আমরা চাই, খালটি দ্রুত খনন করার উদ্যোগ নিক সরকার।”

কুতুবপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, জমির ধান বিক্রি করে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনাসহ সংসারের খরচ চলে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বৃষ্টি হলেই বিলে পানি জমে। এবারের বৃষ্টিতে গলা পানি হয়েছে বিলে। বিলের পানি যে খালটি দিয়ে প্রবাহিত হয় সেটি এখন দখলের শেষপ্রান্তে। যে যার মত করে দখল করছে, যার কারণে এই দুর্গতি আমাদের। সবার স্বার্থে খালটি খনন করা হলে ফসল রক্ষার পাশি মাছ ও জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে।
কুতুবপুর গ্রামের সেলিম মিয়া বলেন, বেড়াবিল থেকে সিধলং বিলের তিন কিলোমিটার সংযোগ খালটি দখল-দূষণে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হতে না পেরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিগত ৫-৭ বছর ধরে এমন অবস্থার কারণে তাদের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। খালটি দ্রুত খনন না করা হলে এই এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।
১৫-২০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে রয়েছে জানিয়ে ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাছরিন আক্তার বানু বলেন, টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ফসল তলিয়ে রয়েছে। এখন পানি কমায় ক্ষতি ভেসে ওঠছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন পাঠানো হবে, সেখান থেকে সহযোগিতা করলে যথাযথভাবে কৃষকদের মাঝে বণ্টন করা হবে।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্ব দিয়ে খননের কথা জানিয়েছেন ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখলাক উল জামিল।
তিনি বলেন, “মূলত কৃষি অর্থনীতি চাঙা হবে; কৃষকেরা সব ধরনের সুবিধা ভোগ করবে সেই বিবেচনায় গুরুত্ব দিয়ে খাল খনন করা হয়ে থাকে। গৌরীপুরে খাল খনন না হওয়ায় কৃষকের ফসল হুমকির মুখে পড়েছে- এমন বিষয়ে আমরা অবগত নই। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আবেদন করে স্থানীয়রা যদি আমাদের অবগত করে তাহলে খনন করতে মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করা হবে।”