Published : 11 Dec 2025, 10:26 PM
রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে পড়ে যাওয়ার ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা সেই শিশু সাজিদ হোসনকে বাঁচানো যায়নি। অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টায় ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেছেন।
এর ঘণ্টা খানেক আগে রাত ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল গর্তের পাশে খনন করা একটি সুরঙ্গের মাধ্যমে শিশুটিকে তুলে আনে। পরে অচেতন অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
দুই বছরের সাজিদ পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের ছেলে। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ সময়ের চেষ্টা নজর কাড়ে পুরো দেশের।
বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে মায়ের সঙ্গে বাড়ির পাশে বিলে যাওয়ার সময় একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে শিশুটি পড়ে যায়।
শিশুটির মা রুনা খাতুন বলেন, “দুই শিশুকে নিয়ে ওই মাঠে ধানগাছের খড় নিতে যাচ্ছিলাম। এ সময় সাজিদকে কোল থেকে নামিয়ে দেই। সে আমার পেছনে পেছনে হাঁটছিল। পরে পেছনে তাকিয়ে দেখি ছেলে নেই। এরপর দেখি গর্তের ভেতর থেকে মা মা বলে ডাকছে।”
স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস শিশুটিকে উদ্ধারের পদক্ষেপ নেয়। ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে কাজ শুরু করেন।
তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট গিয়ে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। রাতভর উদ্ধার চেষ্টার মধ্যে গর্তের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়।
উদ্ধার কাজ শুরুর পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বলেন, আট ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সরু গর্ত দিয়ে মাটির ৩৫ ফুট গভীরে শিশুটি পড়ে গেছে। ক্যামেরা পাঠিয়ে শিশুটির অবস্থান ৩৫ ফুট নিচে নির্ণয় করা হয়। শিশুটিকে জীবিত রাখতে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
একই সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধারে গর্তের পাশে স্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করা শুরু হয়। বুধবারের পর বৃহস্পতিবার দিনভর কাজ করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
গর্তের ভেতরে শিশু: ৩৫ ফুট গভীরেও খোঁজ মেলেনি, সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে ফায়ার সার্ভিস