Published : 25 Feb 2026, 08:14 PM
ফরিদপুরের বোয়ালমারীর এক জুটমিলে পায়ুপথে উচ্চচাপের বাতাস প্রবেশ করিয়ে এক কিশোর শ্রমিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোর মারা যায় বলে জানিয়েছেন বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন।
নিহত সজিব শরীফের (১৩) বাড়ি দাদপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামে। সে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা এলাকায় অবস্থিত জনতা জুটমিলে শ্রমিক হিসাবে কর্মরত ছিল।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মিল ছুটির আগে সজিব ও ১৩ বছর বয়সী আরেক কিশোর শ্রমিক উচ্চচাপের হাওয়ার মেশিন দিয়ে মিলের আঙিনা পরিষ্কার করছিল।
অভিযোগ উঠেছে এ সময় দুষ্টামির ছলে অপর কিশোর সে বাতাস সজিবের পায়ুপথে প্রবেশ করায়।
এতে সজিব গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মিল কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সজীবের অস্ত্রোপচার করা হলেও রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দাদপুর গ্রামের কয়েকশ মানুষ জনতা জুটমিলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করানো এবং তদারকির অভাবেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান বলেন, অপর বাড়ি কিশোরের বাড়ি বোয়ালমারী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে। সে পলাতক থাকায় তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বোয়ালমারী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, সজিবের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা থেকে এখনো গ্রামের বাড়িতে আসেনি। মরদেহ আসার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“এ ঘটনায় হত্যা মামলা হবে। তবে লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় জমা দেয়নি কেউ।”
এদিকে ঘটনার পর জনতা জুটমিলের ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে মিল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে ক্ষোভের পাশাপাশি মিলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শিশুশ্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ বছর বয়সী দুই কিশোর কিভাবে ভারী শিল্পকারখানায় কাজ করছিল- তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। শ্রম আইন ও কারখানার নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।