২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সুন্দরবনের আগুন নেভানোর কাজ শুরু, তদন্ত কমিটি গঠন

“আগুন ছড়িয়ে ছিটিয়ে জ্বলছে। এই আগুন নেভাতে সময় লাগবে।”

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 May 2024, 11:29 AM

Updated : 26 Aug 2026, 09:32 AM

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আমরবুনিয়া বনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের বাগেরহাট কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী জানান, রোববার সকাল ৮টা থেকে বাগেরহাট ও খুলনার পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

সুন্দরবনে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, কী পরিমাণ এলাকায় আগুনে বিস্তৃতি লাভ করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে একই দিন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বনবিভাগ।

সকালে আগুন নেভানোর কাজে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনও যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড তাদের ‘আধুনিক’ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালাচ্ছে।

এর আগে শনিবার দুপুরে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আমুরবুনিয়া এলাকায় আগুনের কুণ্ডলী থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখে বনকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে তারা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। বনকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীও আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।

সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে রাত হওয়ায় আগুন নেভানোর কার্যক্রম শুরু না করেই ফিরে যান তারা।

সকালে আগুন নেভানোর কাজ শুরুর পর ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সাইদুল আলম চৌধুরী বলেন, “সুন্দরবনের ভোলা নদী থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি নিয়ে আগুন নেভানো হচ্ছে। আগুন ছড়িয়ে ছিটিয়ে জ্বলছে। এই আগুন নেভাতে সময় লাগবে।”

শনিবার আগুন লাগার পর পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুলসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

কাজী মুহাম্মদ নুরুল রাতে সাংবাদিকদের বলেন, এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আগুনের বিস্তৃতি লাভ করেছে বলে জানা গেছে। তবে এই আগুনের খুব বেশি ক্ষতি হয়নি; আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরে তদন্ত কমিটি দেওয়া হবে। কমিটি তদন্ত করে বিস্তারিত জানাবে।

সেই কমিটি গঠন করেছে বনবিভাগ। কমিটির প্রধান করা হয়েছে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেবকে।

কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন- চাঁদপাই রেঞ্জের জউিধরা স্টেশনের অফিসার মো. ওবায়দুর রহমান এবং ধানসাগর স্টেশনের অফিসার মো. রবউিল ইসলাম।

আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম জানিয়েছেন।

এ বন কর্মকর্তা বলেন, “ফায়ার সার্ভিস সুন্দরবনের ভোলা নদী থেকে পানি নিয়ে, তা ছিটিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছে। যেসব স্থানে আগুনের ধোঁয়া ও কুণ্ডলী দেখতে পাচ্ছে সেখানে পানি ছিটাচ্ছে।”

“ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বন বিভাগ ও গ্রামবাসী আগুন নেভাতে কাজ করছে। কাছাকাছি পানির উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি না নেভা পর্যন্ত তারা কাজ করবে। আজ সারদিন তারা কাজ করবে।”

নতুন কোনো এলাকায় যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সুন্দরবনে আগুন: ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, কাজ করবে রোববার থেকে