Published : 27 Apr 2026, 05:26 PM
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-রুয়েট ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখন ও একটি ব্যানার পোড়ানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসে একদল শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ বহাল রাখার দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন।
অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে ছাত্রদল সমর্থক শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন।
প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হল- ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার নামে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বহিষ্কার, নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কোনো দল কীভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে সে বিষয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা এবং গণভোটের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে কিনা সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
প্রশাসনিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, “ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন দেওয়ার পরও একটি সংগঠন কীভাবে কার্যক্রম চালায় সেই বিষয়ে আমরা প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই। এ ছাড়া আমরা গণভোটের দাবি জানিয়েছি, যাতে শিক্ষার্থীরাই ঠিক করতে পারে যে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কিনা।”

অন্যদিকে ফটকের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ‘পরিচয়’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হুমায়ুন কবির জীম বলেন, “আমরা ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ মতকে সম্মান জানাই। তবে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ আড়ালে ‘গুপ্ত’ একটি রাজনৈতিক সংগঠন সবসময়ই তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারাই এখন ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের আন্দোলন চালাচ্ছে।”
দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা আগেও যে কয়েকটি ক্যাম্পাসে এমন ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের আন্দোলন করতে দেখেছি, সেখানে নেতৃত্ব দেওয়া ‘সাধারণ শিক্ষার্থীই’ পরবর্তী একটি ছাত্র সংগঠনের নেতা বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আমরা চাই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি চালু করা হোক, যাতে কেবল একটি গোষ্ঠী ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের নামে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ না পায়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সারাদেশের মত রুয়েট ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত’সহ বিভিন্ন দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেন। পরে ‘গুপ্ত’ লেখা ওই দেয়াল লিখনের উপর ‘নো পলিটিক্স’ লেখা একটি ব্যানার টানানো হয়। রোববার রাতে সেই ব্যানারটি নামিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে একদল শিক্ষার্থী রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা ব্যানার পোড়ানোর জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেন।
মিছিলটি জিয়া হলের সামনে পৌঁছালে সেখানে ছাত্রদল-সমর্থকদের পাল্টা কর্মসূচি শুরু হলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় শিক্ষকরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে রাত ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন এবং সোমবার দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে কর্মসূচি পালনের ডাক দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ক্যাম্পাসে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।