“অন্য কারখানার পোলাপান গিয়ে হাঙ্গামা করছে আর চাকরি গেল আমার।”
Published : 07 Nov 2024, 05:19 PM
গাজীপুর নগরের কোনাবাড়ী এলাকায় তুসুকা গ্রুপের ২৩৯ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিক আন্দোলন ও ভাঙচুরের কারণে এক সপ্তাহ আগে গ্রুপটির ছয়টি কারখানা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের একটি তালিকা কারখানার প্রধান ফটকে লাগিয়ে দেওয়া হয়।
ছাঁটাইয়ে খবর পেয়ে সকাল থেকে আশপাশের অনেক পুরুষ ও নারী শ্রমিকরা কারখানার সামনে ভিড় করেন। এ সময় অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
তুসুকা কারখানার শ্রমিক মনির হোসেন বলছিলেন, “আমাদের অনেক শ্রমিককেই ছাঁটাই করা হয়েছে। এ খবর শুনে বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় গেটে গিয়ে দেখি আমার নামও তালিকায় রয়েছে। আমার কি দোষ তাও আমি জানি না। যেদিন আন্দোলন হয়েছে ওই দিন আমার ডিউটি ছিল রাতে।
“আমি ওই আন্দোলনে জড়িত নই। ওইদিন অন্য কারখানার পোলাপান গিয়ে হাঙ্গামা করছে আর চাকরি গেল আমার। এখন নতুন কইরা কোথায় যামু কোথায় কাজ খুঁজবো সেটাই বুঝতাছি না।”
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শিল্প পুলিশ জানায়, গত ২ নভেম্বর শ্রমিক আন্দোলনের কারণে পরদিন থেকে কোনাবাড়ী এলাকার তুসুকা গ্রুপের তুসুকা জিন্স লিমিটেড, তুসুকা ট্রাউজার্স লিমিটেড, তুসুকা প্রসেসিং লিমিটেড, তুসুকা প্যাকেজিং লিমিটেড, তুসুকা ডেনিম লিমিটেড এবং তুসুকা ওয়াশিং লিমিটেড শ্রম আইনের ১৩(১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর কারখানায় ‘বিশৃঙ্খলার অভিযোগে’ ২৩৯ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।
ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক ফেরদৌসী আক্তার বলছিলেন, “কারখানায় হামলা-ভাঙচুর হয়ে থাকলে আমাদের কি দোষ?। আমরা চাকরি করে খাই। আমরা কাজ করতে চাই; কোনো ঝামেলা চাই না।”
তুসুকা ট্রাউজার লিমিটেড কারখানার অপারেটর ওমর আলীকে ছঁটাই করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, “আমার তো কোনো অপরাধ নাই তারপরও আমাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এখন আবার নতুন করে চাকরি খুঁজতে হবে।”
শ্রমিক বিল্লাল হোসেন বলেন, “কারখানা এমনিতেই বন্ধ। এর মধ্যে বুধবার রাত ৮ টার দিকে আমার মোবাইল ফোনে মেসেজ আসে- মো. বিল্লাল ৬ নভেম্বর থেকে আপনার চাকরির অবসান হল। আপনার পাওনাদি কারখানার হিসাব শাখা হতে দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে তুসুকা গ্রুপের পরিচালক তারেক হাসান বলেন, “কারখানায় মারামারি ও ভাংচুরের অভিযোগে তাদের
শ্রম আইনের বিধি মোতাবেক ২৩৯ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। তাদের সবার পাওনাদি শ্রম আইন অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে।”
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আবু তালেব বলেন, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের খবর পেয়ে কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিও রয়েছে।