১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংবাদিক তুহিন হত্যায় গ্রেপ্তার ৭

পুলিশের উপ-কমিশনার রবিউল বলেন, “তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হবে।”

সাংবাদিক তুহিন হত্যায় গ্রেপ্তার ৭
(উপরে বাঁ থেকে) ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান ও তার স্ত্রী গোলাপী, সুমন, (নীচে বাঁ থেকে) স্বাধীন, আল আমিন

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Aug 2025, 11:23 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:32 PM

গাজীপুরে প্রকাশ্যে সাংবাদিক তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার রবিউল হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে জানানোর কথা বলেছেন। 

গ্রেপ্তাররা হলেন, ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান (যাকে হত্যাকাণ্ডের হোতা বলছে পুলিশ), তার স্ত্রী গোলাপী, সুমন, আল আমিন, স্বাধীন, মো. শাহ জালাল (৩২), এবং মো. ফয়সাল হাসান (২৩)।  

উপ-কমিশনার রবিউল বলেন, সাংবাদিক তুহিন হত্যার ঘটনায় মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

এর মধ্যে গাজীপুরের সদর উপজেলার ভবানীপুর থেকে ফয়সাল, তার স্ত্রী গোলাপী ও সুমনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকার উত্তরার তুরাগ এলাকা থেকে আলামিনকে গ্রেপ্তার করেছে বাসন থানা পুলিশ। গাজীপুরের সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকা থেকে স্বাধীনকে গেপ্তার করেছে র‌্যাব। 

এছাড়া, মামলার অন্যতম আসামি শাহ জালালকে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানাধীন চর মসলন্দ মোড়লপাড়া থেকে এবং মো. ফয়সাল হাসানকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শাহ জালাল কুমিল্লার হোমনার কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুরের হানিফ ভূঁইয়ার ছেলে এবং ফয়সাল পাবনা চাটমোহর থানার পাচবাড়ীয়ার কিয়ামুদ্দিন হাসানের ছেলে। ফয়সাল গাজীপুর বাসন থানার চান্না মাহাবুব স্কুল মোড় এলাকায় ভাড়া থাকেন। 

ফয়সাল হাসান ও শাহ জালাল

ফয়সাল হাসান ও শাহ জালাল

রবিউল আরও বলেন, “তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, তার সঠিক তথ্য বের করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হবে।” 

নিহত সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতেন। 

বৃহস্পতিবার রাতে চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বড়ভাই মো. সেলিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে মামলা করেছেন। 

আসাদুজ্জামান তুহিন স্ত্রী মুক্তা আক্তার ছাড়াও সংসারে দুই ছেলে তৌকির (৭) ও ফাহিমকে (৩) রেখে গেছেন।

স্বজনরা জানান, আসাদুজ্জামান তুহিন ২০০৫ সালে ফুলবাড়িয়া আাল হেরা স্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৭ সালে সিলেট এম সাইফুর রহমান কলেজ থেকে এইচএসসি পাশের পর গাজীপুর ভাওয়াল কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) করে সেখানে ভাই জসিম উদ্দিনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। পরে ওষুধ কোম্পানির চাকরি শুরু করেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত হন।

আরও পড়ুন 

শুক্রবারই বাড়ি ফিরলেন সাংবাদিক তুহিনতবে নিথর দেহে

'কী অপরাধ আমার ছেলের', প্রশ্ন সাংবাদিক তুহিনের বাবার

সাংবাদিক তুহিনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গাজীপুরে

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যায় মামলাআটক ৫

সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচার দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন

সাংবাদিক তুহিন হত্যাখাগড়াছড়ি ও কিশোরগঞ্জে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ

আরেকজনকে কোপানোর 'ভিডিও ধারণ করায়খুন হন সাংবাদিকপুলিশ

গাজীপুরে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা