কম দামে মাংস বিক্রি করায় খুন, মাদারীপুরে গ্রেপ্তার ১

মামুন ও খোকন একসঙ্গেই গরুর মাংস বিক্রির ব্যবসা করতেন। নির্ধারিত দামে গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Feb 2024, 09:59 AM
Updated : 5 Feb 2024, 09:59 AM

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় কম দামে মাংস বিক্রি করা এক কসাইকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, রোববার রাতে মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় র‌্যাব-৫ ও ৮ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান খোকনকে গ্রেপ্তার করে। তিনিও পেশায় একজন মাংস ব্যবসায়ী।

সোমবার কারওয়ানবাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে কমান্ডার মঈন বলেন, বাঘার আড়ানি হাটে গত ২০ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ন্যায্য দামে মাংস বিক্রি করায় মামুন হোসেন (৩০) নামের এক কসাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে মাংস ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান খোকন।

ওই সময় উপস্থিত লোকজন মামুনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মাংস বিক্রেতা মামুন পৌরসভার পিয়াদাপাড়া গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে। ওই ঘটনা সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

কমান্ডার মঈন বলেন, "মামুন ও খোকন পরস্পরের আত্মীয়। তারা আড়ানি হাটে একসঙ্গেই গরুর মাংস বিক্রির ব্যবসা করত। কিছুদিন হল ভোক্তা অধিদপ্তর, মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্মিলিত বৈঠক করে ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ভোক্তা অধিদপ্তর নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে খোকন ও মামুনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়।"

তিনি বলেন, "গত বছর শেষ দিকে মামুন ভোক্তা অধিদপ্তরের দেওয়া নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলাদাভাবে মাংস বিক্রির ব্যবসা শুরু করে। ফলে খোকনের তুলনায় মামুনের দোকানের ক্রেতা বেড়ে যায়।

“খুনের ঘটনার দিন নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রি করা নিয়ে তাদের মধ্যে আবার ঝাগড়া বাঁধলে খোকন উত্তেজিত হয়ে মাংস কাটার ছুরি দিয়ে মামুনকে প্রকাশ্যে পেটে ও বুকের ডান পাশে আঘাত করে পালিয়ে যায়।"

র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ এড়াতে খোকন প্রথমে রাজশাহীর তাহিরপুরে তার এক আত্মীয়র বাড়িতে পালিয়ে ছিলেন। পরে মাদারীপুরের শিবচরে গিয়ে কুতুবপুরে স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা নেন। পুরনো এক বন্ধুর মাধ্যমে সেখানে ড্রেজার শ্রমিক হিসেবে কাজও শুরু করেন।

খোকনের বিরুদ্ধে রাজশাহীর বাঘা থানায় মাদক মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি কিছুদিন জেলও খেটেছেন বলে র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।