Published : 16 Nov 2024, 10:56 AM
সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
শনিবার ভোরে সূর্যোদয়ের আগে সাগরের প্রথম জোয়ারে পুণ্যস্নান করে হাজার হাজার পুণ্যার্থী তাদের মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন। যার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তিনদিন ব্যাপী এ উৎসবের।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দেড়শ বছরের পুরানো এই রাস উৎসব শুরু হয়।
রাস উৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বসু সন্তু বলেন, কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যলাভের আশায় এখানে জড়ো হয়েছিলেন। এখানে প্রতিদিন পূজা অর্চনা, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সূর্যোদয়ের আগে সাগরের জোয়ারের জলে পুণ্যস্নান করলে পাপমোচন হয়ে থাকে বলে তারা বিশ্বাস করেন। তাই শনিবার ভোরে সূর্যোদয়ের আগে সাগরের প্রথম জোয়ারে পুণ্যস্নান করেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরের আলোরকোলে এই রাস উৎসবে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী, পুরুষ ও দর্শনার্থীসহ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ সমাবেত হন।
উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগে মোট আটটি প্রবেশ দ্বার প্রস্তুত রাখা হয়। সেগুলো হল- ঢাংমারী, বগী, কচিখালী, শরণখোলা স্টেশন, বুড়িগোয়ালিনি, কৈখালী, কয়রা কাশিয়াবাদ এবং নলিয়ান।
এসব স্থান থেকে বনবিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন পুণ্যার্থীরা।
সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, “প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও পর্যটক এই রাস উৎসবে অংশ নেন। রাস উৎসবস্থল সব ধর্মের মানুষের এক মহামিলন মেলায় পরিণত হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব শেষ করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।”
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ বলেন, “দুবলার চরের রাস উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে সুন্দরবনে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উৎসবে যোগ দেওয়া পুণ্যার্থীদের কোনো অসুবিধা না হয় তার জন্য র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বনবিভাগ ছিল তৎপর।”