১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মুন্সীগঞ্জে বালুবাহী নৌযানের ধাক্কায় পিকনিকের ট্রলারডুবি, নিহত বেড়ে ৮

উদ্ধার যাত্রীদের বরাতে পুলিশ জানায়, আরও অন্তত চারজন নিখোঁজ আছেন, তাদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2023, 10:23 PM

Updated : 06 Aug 2023, 02:23 AM

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় বালুবাহী নৌযানের ধাক্কায় পিকনিকের ট্রলার ডুবে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিখোঁজ আরও অন্তত চারজনকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রসকাঠি এলাকার পদ্মার শাখা নদীতে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান জানান।  

নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও চারজন শিশু। এদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- সিরাজদিখানের পপি (২৬), হ্যাপি (২৮), শাকিব (৮), সাজিবুল (৪), ফারিহান (১০), মোকসেদা (৪২) ও রাকিব (১২)।

বাকি একজন নারী; তবে তার পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পাশের সিরাজদিখান উপজেলা থেকে ট্রলারে করে লোকজন পদ্মা সেতু ও এর আশপাশের এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। ট্রলারটিতে ৪৬-৪৭ জনের মত যাত্রী ছিলেন। সারাদিন বেড়িয়ে ফেরার পথে লৌহজং এলাকায় বালুবাহী একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় সেটি ডুবে যায়।

পুলিশ সুপার আসলাম খান বলেন, “স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। অধিকাংশই সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন। ৩৪ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।

“ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন।”

ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক আবু জাফর রিপন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান ও লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আউয়ালসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা উদ্ধার কাজ তদারকি করছেন।

স্থানীয়রা জানান, যে জায়গায় ট্রলারটি ডুবেছে তার এক পাশে লৌহজংয়ের রসকাঠি গ্রাম আর অপরপ্রান্তে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সিলিমপুর গ্রাম। দুর্ঘটনার পর দুই পাড়ের মানুষ ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের লোকজন আসেন।

কিন্তু রাতের অন্ধকার আর নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের উদ্ধার কাজ চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

বালুবাহী বাল্কহেড রেখে চালক পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির ছাদে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে শামিয়ানা টানানো ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

দুর্ঘটনার পর পরই ট্রলারের যাত্রীদের স্বজনরা নদী পাড়ে চলে আসেন। সেখানে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা আহাজারি করছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর পরই প্রিয়জনের খোঁজে তারা সেখানে ছুটে যাচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, নদীপাড়ে দুই নারী ও দুই শিশুর মরদেহ রয়েছে। পুলিশ সদস্যরা নিহত ও নিখোঁজ স্বজনদের মাধ্যমে তাদের নাম-পরিচয় তালিকাভুক্ত করছেন।

বাকি চারজনের মরদেহ টঙ্গিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে এ দুটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চারজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।