২১ জানুয়ারি বিদ্যালয়ে খেলতে গিয়ে ময়লার স্তূপের আগুনে দগ্ধ ওই শিক্ষার্থী পাঁচ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
Published : 31 Jan 2025, 08:11 PM
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় খেলতে গিয়ে ময়লার স্তূপের আগুনে দগ্ধ হয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আট শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
ঘটনার আট দিন পর বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান কচুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন- তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন, জসিম উদ্দিন, সাহিদা আক্তার, সুমি আক্তার, রোকেয়া আক্তার, কাজী শাকিরীন, ফয়েজুন নেছা এবং ফাতেমা আক্তার।
তবে সহকারী শিক্ষিকা হাফসা আক্তার ওই দিন ছুটিতে থাকায় এবং প্রধান শিক্ষক মাসুক হাসান শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে হাত পুড়ে যাওয়া তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়নি।
এর আগে ২১ জানুয়ারি সকালে উপজেলার তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় খেলতে গিয়ে ময়লার স্তূপের আগুনে দগ্ধ হয় সামিয়া রহমান (৫)। পাঁচ দিন পর ২৬ জানুয়ারি ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সামিয়া ওই এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়ে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা বলেন, এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। ২৯ জানুয়ারি তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পায়। পরে ১০ শিক্ষকের মধ্যে আটজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তদন্ত দলে রয়েছে- চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন, চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ চৌধুরী, কচুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা এবং কচুয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র।
তদন্ত শেষে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন বলেন, “আগুনে পুড়ে সামিয়ার মৃত্যুতে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে সরেজমিনে কমিটির অন্য সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সকলের লিখিত বক্তব্য নিয়েছি।
“প্রাথমিকভাবে আমরা সামিয়ার মৃত্যুতে শিক্ষকদের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছি। এ কারণে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আট শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া অফিস সহায়ক সুমন মজুমদারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সামিয়ার বাবা মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনার দিন আমি বাড়িতেই ছিলাম। অবুঝ মেয়েটি আমার এভাবে স্কুলে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাবে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। শিক্ষক ও কর্মচারীর অবহেলার কারণেই আমার মেয়ে পুড়ে মরেছে।”
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষ দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানান তিনি।