Published : 10 Jul 2025, 03:02 PM
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পাহাড় ধসের শঙ্কায় রয়েছে বহু পরিবার।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের নিচু এলাকা মেরুং পাড়া, সোবাহানপুর ও চিটাইগ্যাংয়া পাড়া প্লাবিত হয়েছে।
এ অবস্থায় দীঘিনালার মেরুং ও কবাখালি ইউনিয়নের অন্তত ৫৫ পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।
দীঘিনালা-লংগদু সড়কের হেডকোয়াটার এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ার কারণে রাঙামাটির লংগদুর সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে মেরুং বাজার ডুবে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি থাকার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলেও দুপুরের পর থেকে তা ভারি বর্ষণে রূপ নেয়।
মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়াটার এলাকায় আব্দুল মজিদ বলেন, “বুধবার রাতে পানি অনেক বেড়েছিল। সকালে কিছুটা কমে আসলেও বৃষ্টি এখন আবার বেড়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি আবারও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।”

একই এলাকায় কথা হয় লুৎফর ফয়সালের সঙ্গে। তিনি বলেন, “লংগদু যাওয়ার জন্য এসেছি। সড়কের কয়েকটি জায়গায় পানি উঠেছে। হেডকোয়ার্টার এলাকায় প্রচুর পানি। নৌকা দিয়ে পারাপার করছি। প্রতি ঘণ্টায় মনে হচ্ছে পানি বাড়ছে।”
মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনা চাকমা বলেন, “ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৩ পরিবার ও ছোট মেরুং বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি বাড়ছে, পানিও বাড়বে।”
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, “দুটি ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ৫৫টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে মেরুংয়ে ৩৪ পরিবার এবং কবাখালি ইউনিয়নে ২১ পরিবার। তাদেরকে রান্না করে খাবার দেয়া হচ্ছে।
এছাড়া প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে খাগড়াছড়ি পৌর শহরের শালবন, কুমিল্লাটিলা, সবুজবাগ বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন স্থানীয়রা। এসব এলায় পাহাড় ধসের শঙ্কায় রয়েছে সাড়ে তিন হাজার পরিবার।
টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে প্রচার চালাচ্ছে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা প্রশাসন। খাগড়াছড়ি জেলা সদরে চারটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করেছে জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যেহেতু টানা বৃষ্টি হচ্ছে পাহাড় ধসের শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেছে। কিন্ত বারবার অনুরোধ করার পরও তারা বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছে না।
“আশ্রয় কেন্দ্রে আমরা গরম খাবার দিচ্ছি। খাবার নিয়ে তারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। আমরা প্রচুর চেষ্টা করছি কিন্ত বাসিন্দারা আশ্রয় কেন্দ্রে আসছে না।”
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, “বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বুধবার সিন্দুকছড়ি-জালিয়াপাড়া সড়কের কয়েকটি স্থানে সড়কের মাটি ধসে গেছে। কিছু সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল সড়ক বিভাগের কর্মীরা গিয়ে মাটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।”