Published : 25 Dec 2025, 11:33 PM
রাজবাড়ীর পাংশায় গণপিটুনিতে অমৃত মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক নয় বলে দাবি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ''এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট ঘটনা।''
বিবৃতিতে বলা হয়, “নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে এলাকায় উপস্থিত হন এবং বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে প্রাণ হারান।
“তিনি এর আগে ২০২৩ সালের হত্যা এবং চাঁদাবাজির মামলাসহ একাধিক গুরুতর মামলার আসামি ছিলেন। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।”
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সম্রাটের সহযোগী সেলিমকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি পাইপগানসহ আটক করে এবং এ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বলেছে, ''যেকোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা সহিংসতা সরকার কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এ ঘটনায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “একটি মহল নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসদুদ্দেশ্য প্রণোদিত। এ ধরনের অপপ্রচার সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।''
বিবৃতিতে সরকার সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানায়।
''আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ,'' বলা হয় বিবৃতিতে।
রাজবাড়ীর পাংশায় কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামে ‘চাঁদা তুলতে যাওয়া’ এক যুবককে বুধবার রাতে পিটিয়ে হত্যা করেন স্থানীয়রা। ওই যুবককে ‘সম্রাট বাহিনীর’ প্রধান বলছে পুলিশ।
এ সময় দুইটি অস্ত্রসহ একজনকে আটক করে পুলিশে দেয় জনতা।
স্থানীয়দের বরাতে পাংশা থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, সম্রাট নিজেই তার নামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি করতেন। তার নামে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
ওসি বলেন, সম্রাট দীর্ঘ দিন ভারতে পালিয়ে থাকার পর সম্প্রতি এলাকায় ফিরে শহীদ শেখ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তারা চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরে বুধবার রাতে সম্রাট তার সহযোগীদের নিয়ে ওই বাড়িতে চাঁদার টাকা আনতে যায়।
এ সময় বাড়ির লোকজন ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে সম্রাটকে আটক করে। পরে তাকে পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে।
আরও পড়ুন