Published : 06 Feb 2026, 02:47 PM
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। তিনি ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ের মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে আছেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চিঠি দিয়ে তিনি ভোটের মাঠ ছাড়ার ঘোষণা দেন। সেই চিঠিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মোবাইলে বলেন, “আমার নিজের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা। তারা ঘড়ছাড়া। আমার লোকজনদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলে সরে দাঁড়ালাম।”
চিঠিতে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, “শিবগঞ্জের মানুষের ভালোবাসাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। দল-মত নির্বিশেষে আজীবন আমি শিবগঞ্জের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত শিবগঞ্জের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছি। অনেক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ আজও অসমাপ্ত রয়ে গেছে। সেই অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই আমি আবারও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
“কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও গভীর বেদনায় বলতে হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার নির্বাচনি এলাকায় একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। আজ আমার এবং আমার অসংখ্য নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, তারা এলাকাছাড়া। তাদের- নানারকম ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে শিবগঞ্জে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা চাপে পড়ে যায়।”
তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাজনীতি হবে আদর্শের, প্রতিহিংসার নয়; প্রতিযোগিতা হবে উন্নয়নের, ষড়যন্ত্রের নয়। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন মানে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা নয়, বরং ভয় ও জবরদস্তিকে বৈধতা দেওয়া। তাই শিবগঞ্জের মানুষের সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন থেকে আমি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।”
জিন্নাহ বলেন, “আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শিবগঞ্জের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমি সবসময় চেয়েছি শিবগঞ্জের মানুষ শান্তিতে থাকুক, নিরাপদে থাকুক, সম্মানের সঙ্গে বাঁচুক। আমি কখনো চাইনি আমি বা আমার দলের কোনো নেতা-কর্মী শিবগঞ্জের মানুষের ওপর কোনো অন্যায় বা অবিচার করুক।
“আমি আগামীতেও শিবগঞ্জের মানুষের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ। নির্বাচন বর্জন মানে পিছু হটা নয়; এটি ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর একটি প্রতিবাদ।”
আরও পড়ুন:
বগুড়া-২: জাপার প্রার্থী পলাতক, মাঠে নেই কর্মী, প্রচার শুধু মাইকে