Published : 05 Feb 2026, 07:52 PM
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির জেলা কমিটির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ।
কিন্তু শুরু থেকেই তিনি ভোটের মাঠে নেই। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, তিনি ৫ অগাস্টের মামলায় আসামি হয়ে পলাতক আছেন। শুধু তিনি না, তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এই অবস্থায় এই আসনে লাঙ্গলের প্রচার কাজ চলছে শুধু মাইক বাজিয়ে। আর কোনো প্রচার নেই। প্রার্থীকে কোনো গণসংযোগ বা প্রচারপত্র বিলি করতেও দেখেননি ভোটাররা।
এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মীর শাহে আলম, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তারাই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
এ ছাড়া এখানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জামাল উদ্দীন, গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার এবং স্বতন্ত্র রেজাউল করিম তালু নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।
এই আসনে প্রথমে বিএনপি জোটের হয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ঋণখেলাপী সংক্রান্ত ঝামেলায় তখন বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মীর শাহে আলমও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে তিনি আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান। কিন্তু এরই মধ্যে বিএনপি মীর শাহে আলমকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়। ফলে জোটের প্রার্থী হিসেবে এখান থেকে ছিটকে পড়েন মান্না। এই অবস্থাতেও মান্না শিবগঞ্জ নির্বাচনি এলাকায় প্রচার কাজ চালাচ্ছেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির জেলা কমিটির সহসভাপতি ফজলে রাব্বি মঞ্জু বলেন, তিনি নিজে পলাতক এবং তার পরিবারের লোকজনও পলাতক। তিনি জেলা-উপজেলার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না।
“তার ভোট করছে ‘শুধু মাইক’। মাইকের প্রচার একমাত্র ভরসা। তার মনোনয়নপত্র দাখিল কে করেছে, সেটাও আমরা জানি না।”
ফজলে রাব্বি বলেন, “দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমর সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু পক্ষে চলে গেছেন। সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ পলাতক থাকার পরও কেন্দ্র সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে কাউকে ভারপ্রাপ্ত করেনি। জেলা কমিটি এতিম হয়ে পড়ে আছে; বাপ-মা নেই অবস্থা।”
শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, “শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর বিরুদ্ধে দুদকসহ ১২টি মামলা রয়েছে। এলাকায় আসলে কিংবা খোঁজ পেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
“তবে যেহেতু বৈধ প্রার্থী, তাই তার প্রচারে কোনো বাধা নেই। শুনেছি, তার পক্ষে মাইকিং হচ্ছে।”
নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা যায়, এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। পুরুষ ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৯ এবং নারী ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫৩ জন। এ ছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন পাঁচজন।
১৯৭৩ সালের নির্বাচনে বগুড়া-২ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ১৯৭৯ সালে সেখানে বিএনপির আবুল হাসনাত চৌধুরী সংসদ সদস্য হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে মোজাফফর হোসেন, ১৯৮৮ সালে ফ্রিডম পার্টি থেকে সৈয়দ মাসকুরুল আলম চৌধুরী, ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর শাহাদাত-উজ-জামান সংসদ সদস্য হন।
১৯৯৬ সালে আসনটিতে বিএনপি থেকে এ কে এম হাফিজুর রহমান, ২০০১ সালে রেজাউল বারী এবং ২০০৮ সালে এ কে এম হাফিজুর রহমান সংসদ সদস্য হন।
পরে ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ সংসদ সদস্য হন। ২০১৮ সালে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ ফের বিজয়ী হন।