Published : 28 Jun 2026, 06:01 PM
ঢাকার আদালতে ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলায় আরেক নারীর হয়ে প্রক্সি দিয়ে ধরা পরা মনোয়ারা বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম নাজমিন আক্তার।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন জানান, দুই দিনের রিমান্ড শেষে এদিন মনোয়ারাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই ওয়ালিদ হোসেন। আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন ছিল না।
২৯ লাখ টাকা চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নিবেদিতা আহমেদ তুলি নামে এক সরকারি চাকরিজীবী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার ধার্য দিন ছিল ১৬ জুন। সে দিন আসামি আদালতে হাজির হননি।
ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরবর্তী শুনানির দিন রাখা হয় ২০ অগাস্ট।
তবে ২৫ জুন আসামি নাসরিনের হয়ে মনোয়ারাকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। পরে ধরা পড়েন মনোয়ারা এবং থানা পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু ওইদিন রাতেই নাসরিন সিকদার, তার হয়ে আদালতে প্রক্সি দিয়ে ধরা পরা মনোয়ারা বেগম ও আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনকে আসামি করে মামলা করেন।
২৬ জুন তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, নাসরিন সিকদারের মামলাটি ঢাকার ৪র্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে বিচারাধীন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মনোয়ারা বেগম প্রকৃত আসামি পরিচয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। শুনানিকালে তার নাম-ঠিকানা ও মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সঠিকভাবে বলতে পারেনি।
আদালতের সন্দেহ হলে তাকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নথিপত্র, পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে দেখা যায়, ওই নারী প্রকৃত আসামি না এবং মিথ্যা পরিচয়ে আদালতে হাজির হয়েছিলেন। নাসরিন সিকদার ও হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন মনোয়ারাকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে প্রকৃত আসামি সাজিয়ে আদালতে উপস্থিত হতে প্ররোচিত করেন।
মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন মামলার নথিভুক্ত ওকালতনামায় নিজের হাতে নাম লিখেছেন এবং ভুয়া ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এই মামলা পরিচালনার ক্ষমতা তার নেই।
আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে এজাহারে বলা হয়, বিচারিক কার্যধারায় প্রতারণামূলকভাবে অন্যের রূপ ধারণ করে আসামিরা মূল্যবান জামানত জাল-জালিয়াতি করেছে।