Published : 29 Mar 2026, 07:14 PM
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় একটি গরুর খামার থেকে এক শ্রমিকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার বেলা ১১টার দিকে ওই শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে মতলব দক্ষিণ থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, সহশ্রমিক ও মালিকের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও খামারের কাজ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ওই শ্রমিককে শনিবার রাতের কোনো এক সময় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক নিহত মঞ্জিল শেখ ওরফে মঞ্জু শেখের (৬০) বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাড়ৈগাঁও গ্রামে। তিনি উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় ‘এমএসপি অ্যাগ্রো’ নামের গরুর খামারে শ্রমিক ছিলেন।
পরিবারের বরাতে দিয়ে পুলিশ বলছে, পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে মঞ্জিল এমএসপি অ্যাগ্রোর গরুর খামারে শ্রমিকের কাজ করেছিলেন। মো. সাগর নামের অপর এক শ্রমিকও তার সঙ্গে খামারে কাজ করতেন; থাকতেন খামারের ভেতরেই।
সাগরের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। খামারের মালিক উপজেলার মধ্য নারায়ণপুর এলাকার সেলিম প্রধান। খামারের দেখভাল করছেন সেলিম প্রধানের ভাই ইয়াকুব প্রধান।
খামারের কাজ ও বেতনবৃদ্ধি নিয়ে প্রায়ই মঞ্জিলের সঙ্গে খামারের দেখভালকারী ইয়াকুবের বিবাদ লেগে থাকত। এছাড়া সহ-শ্রমিক সাগরের সঙ্গেও নানা বিষয় নিয়ে তার ঝগড়া ছিল।
শনিবার রাতের ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ বলছে, মঞ্জিল শেখের সঙ্গে কাজ ও বেতনবৃদ্ধি নিয়ে ইয়াকুব ও সাগরের বাকবিতণ্ডা হয়। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ইয়াকুব মঞ্জিলের ছোট মেয়ে মুক্তা আক্তারকে খামারে ডেকে আনে। মুক্তা ও অন্যান্য স্বজন গিয়ে দেখতে পান, খামারের ভেতরে পাতানো বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় মঞ্জিলের লাশ পড়ে আছে।
তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত এবং রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন দেখা গেছে। লাশের পাশে রক্তমাখা মোটা ও ভারি রড পড়ে ছিল। খামারের সহ-শ্রমিক সাগর তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে বেলা ১১টায় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মঞ্জিল শেখের লাশ উদ্ধার করে।
মঞ্জিলের মেয়ে মুক্তা আক্তার বলেন, “গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু গত রাতে ফোন দিলেও বাবাকে পাওয়া যায়নি। বেতন কম দেওয়াসহ অতিরিক্ত কাজ করানো এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে ইয়াকুব প্রধান ও সাগরের সঙ্গে বাবার বিবাদ চলছিল।
“আমার মনে হয়, তারা দুজনে মিলে বাবাকে হত্যা করেছে। বাবা হত্যার বিচার চাই। থানায় মামলা করব। আমার বাবা কি দোষ করছিল, তাকে কেন খুন করল? বাবা ছাড়া আমরা কেমন বাঁচব।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইয়াকুব ও সাগরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ধরেননি। সাগর ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
ওসি হাফিজুর বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ব্যক্তিগত বিবাদ এবং খামারের কাজ সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে লোহার রড দিয়ে মঞ্জিল শেখকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছোট মেয়ে মুক্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।