Published : 16 Jul 2026, 03:28 PM
গোল করার পর রক্ষণ জমাট রেখে খেলার কৌশলই ইংল্যান্ডের বিপদ ডেকে এনেছে বলে মনে করছেন জো হার্ট। ইংলিশ সাবেক গোলরক্ষকের মতে, ওই সময় আরও স্বাধীনভাবে মাঠে বিচরণ করার সুযোগ পেয়ে যান লিওনেল মেসি। আর সেটাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে দারুণ সহায়তা করে।
আটলান্টায় দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। কিন্তু গোল করেই কৌশল বদলে ফেলে দলটি। আক্রমণের চেয়ে রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ধরেও রাখে লিড।
বল দখলে রাখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে আর্জেন্টিনা। বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি করে তারা। কিন্তু প্রাচীর হয়ে ইংল্যান্ডের পোস্ট আগলে রাখেন জর্ডান পিকফোর্ড। এদিন অনেকগুলো সেভ করেন এই গোলরক্ষক।
শেষ পর্যন্ত পিকফোর্ডের দেয়াল ভাঙতে পারে আর্জেন্টিনা। মেসির থেকে পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে চোখধাঁধানো গোলে দলকে ম্যাচে ফেরান এন্সো ফের্নান্দেস। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির ‘দুর্বল’ ডান পায়ের মাপা ক্রস থেকেই হেডে বল জালে পাঠিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উল্লাসে মাতান লাউতারো মার্তিনেস।
ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি গল্প লিখে, ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার ও গত চার বিশ্বকাপ তৃতীয়বার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে তারা।
ইংল্যান্ডের রণকৌশলে বদল চোখে লেগেছে হার্টের। সঙ্গে মেসির চমৎকার পারফরম্যান্সও নজরে এসেছে তার।
“ছেলেরা আবার মেক্সিকো ও নরওয়ে ম্যাচের সেই কৌশলে ফিরে গিয়েছিল, যেখানে তারা প্রতিপক্ষের আক্রমণ পুরোপুরি থামিয়ে দিয়েছিল। আর সেটাই লিওনেল মেসিকে স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ করে দেয়, যার হাতে ছিল ম্যাচের চাবিকাঠি; শেষ ১৫ মিনিটে তিনি-ই ছিলেন মাঠের একমাত্র মহাতারকা।
“তারা (আর্জেন্টিনা) ডান প্রান্ত দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে বিপদ তৈরি করেছিল, যেখানে শট নেওয়া বা ক্রস করার ক্ষেত্রে একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত, প্রথম গোলটি হয়ে যাওয়ার পর এবং ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পর, ম্যাচের পরিণতি কেবল এক দিকেই যাওয়ার ছিল (আর্জেন্টিনার জয়)।”
শিরোপা ধরে রাখার অভিযানের শেষ ধাপে আগামী ১০ জুলাই স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) শুরু হবে মাঠের লড়াই।