Published : 22 Feb 2026, 09:56 PM
ভিক্ষা আর অন্যের বাড়িতে কাজ করে জমানো শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে দিশেহারা সাতক্ষীরার এক বিধবা নারী। মোটা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তার দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ‘রূপা এনজিও’ নামে কথিত একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১৭ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার মধুমাল্লারডাঙ্গী গ্রামের মৃত সুলতান মিস্ত্রির স্ত্রী মোছা. ছখিনা খাতুন (৭০) থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
তাতে মনিরুল ইসলাম (৬০) ও সোমা খাতুনের (৪০) বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে জীবন চালিয়ে আসছেন ছখিনা খাতুন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে বহু কষ্টে তিনি ৬০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেন। প্রায় আট বছর আগে মনিরুল ইসলাম তাকে ‘রূপা এনজিও’ নামের একটি সমিতিতে টাকা জমা রাখার প্রস্তাব দেন। ছয় বছরে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাসে ২০১৭ সালের ২৮ অগাস্ট ওই টাকা জমা দেন তিনি।
ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর টাকা ফেরত চান ছখিনা। কিন্তু গত তিন বছর ধরে শুধু ‘দিচ্ছি, দেব’ বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তাদের এলাকায় সমিতির কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায় এবং মনিরুল ইসলাম পালিয়ে গেছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।
ছখিনা খাতুন অভিযোগ করেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি সোমা খাতুনের সাতক্ষীরার বাসায় গিয়ে টাকা চাইলে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা বলেন, ‘রূপা এনজিও’ দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আমানত সংগ্রহ করে আসছিল। কালীগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর, বিষ্ণুপুর ও নলতা এলাকায় তাদের একাধিক কার্যালয় ছিল, যা বর্তমানে তালাবদ্ধ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছরে মোটা লাভের প্রলোভনে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
আরেক ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন বলেন, এনজিও কর্মী সোমা খাতুনের কথায় বিশ্বাস করে টাকা জমা দিয়েছিলেন তিনি। এখন চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে চরম কষ্টে দিন কাটছে তার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম মোবাইলে বলেন, সরকার পরিবর্তন ও নির্বাচনের কারণে কিছু সমস্যা হয়েছে। শিগগিরই তহবিল পেলে পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করা হবে।
জেলা সমবায় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রূপা এনজিও’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদন নেই। অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হয়ে থাকলে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।