Published : 24 Sep 2025, 03:45 PM
বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়াসহ বকেয়া বেতনের দাবিতে আশুলিয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে নাসা গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
বুধবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে কয়েক হাজার শ্রমিক। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে পরিবহন চালক ও যাত্রীরা। পরে পুলিশ লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, “১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সড়ক ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছাড়তে অস্বীকার করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ জলকামান ও লাঠিপেটা করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।
একজন শ্রমিক বলেন, “আমাদের দুই মাসের বকেয়া বেতনসহ যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধ করে কারখানা খুলে দিতে হবে। যদি বকেয়া বেতনসহ যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধ করা না হয় তাহলে আমরা আরও কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করেছে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটারস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, নাসা গ্রুপের প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক রয়েছে। জুলাই ও অগাস্ট মাসের বকেয়া বেতন ও বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে দুই থেকে তিন হাজার শ্রমিক সড়কে নামে বিক্ষোভ দেখায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে পুলিশ জলকামান নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর সাভার গলফ ক্লাবে নাসা গ্রুপের নাসা বেশি কমপ্লেক্স, এ জে সুপার কমপ্লেক্স ও নাসা সুপার কমপ্লেক্সের সৃষ্ট শ্রম অসন্তোষ নিয়ে এক সমন্বয় সভা হয়। সভায় মালিকপক্ষ ১১ সেপ্টেম্বর হাতিরঝিল ডিপোতে থাকা নাসার আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার খেজুর বিক্রি, ১৭ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকার ৩০ কোটি টাকা মূল্যের জমিসহ ছয়তলা ভবন বিক্রি, ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গুলশান-২ এর ৪০০ কোটি টাকা মূল্যের জমি বিক্রি করে শ্রমি ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা পরিষদের আশ্বাস দেওয়া হয়।
এই শ্রমিক নেতা আরো বলেন, “জমি, কারখানা ভবন বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা কোনো সমাধান নয়। বন্ধ কারখানা কিভাবে চালু করা যায় সে উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে। আশুলিয়ার নাসা গ্রুপে প্রায় ১০-১২ হাজার শ্রমিক রয়েছে। কারখানা চালু না হলে এ শ্রমিকদের অবস্থা কী হবে, তাদের পরিবারের অবস্থা কী হবে?”
শিল্প পুলিশ জানায়, সকালে বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা। এতে সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন যাত্রীরা।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ২ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হন নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। এরপর থেকেই তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসন্তোষ চলছিল।
তবে, এর মাঝে দফায় দফায় কারখানা বন্ধের নোটিশ দিয়ে এক পর্যায়ে স্থায়ীভাবে গ্ৰুপের মালিকাধীন কারখানাগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ শ্রমিকের পাওনা পরিশোধে সম্পত্তি বিক্রি করতে রাজি হয় নাসা গ্রুপ।