Published : 24 Oct 2025, 08:52 PM
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার একটি গ্রামে গভীর নলকূপের পাইপ স্থাপন করার সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
নলকূপের বোরিং দিয়ে অনবরত বেরোচ্ছে গ্যাস। আর সেই গ্যাসে চলছে গ্রামের কিছু পরিবারের রান্নাবান্নার কাজ। এতে এলাকাবাসী খুশি হলেও তাদের মধ্যে দুর্ঘটনার অশঙ্কা বিরাজ করছে। তবে সেখানে গ্যাসের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
উপজেলার রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের গাছগড়া মধ্যপাড়া গ্রামে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধ্যপাড়া গ্রামের শ্রমিক নূর মোহাম্মদের বাড়িতে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য বোরিং করার কাজ শুরুর এক পর্যায়ে গ্যাসের সন্ধান মেলে। তবে এটি কোন ধরনের গ্যাস এবং এর সম্ভাবনা কতটুকু এ বিষয়ে কেউ কিছু জানেন না। তবে এলাকাবাসীর ধারণা, এটা সাময়িক, যেকোনো মুহূর্তে গ্যাসের চাপ কমে যাবে।

নূর মোহাম্মদ বলেন, ১৪ অক্টোবর সকালে মিস্ত্রি দিয়ে সাব-মার্সিবল পাম্প বসানোর জন্য দেড় ইঞ্চি পাইপ দিয়ে খনন শুরু করা হয়। মাটির ৫৫ ফুট গভীরে পাইপ বসানোর পর হঠাৎ তা উপরের দিকে উঠে আসতে থাকে। সেইসঙ্গে অনবরত গ্যাস বের হতে থাকে।
এরপর বাড়ির অন্য পাশে আরও দুই জায়গায় ৪৫ ও ৪০ ফুট খনন করা হলে সেখানেও একইভাবে গ্যাস বের হতে থাকে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “মিস্ত্রিরা বোরিং করা দুটি গর্ত মাটি চাপা দিয়ে রাখলেও এখনো একটি দিয়ে অনবরত গ্যাস বের হচ্ছে। আর এ গ্যাস দিয়েই টানা ১০ দিন ধরে আমার পরিবারসহ প্রতিবেশীদের রান্নার কাজ চলছে। তবে মাটির নিচে কী পরিমাণ গ্যাস আছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। সরকারিভাবে লোকজন আসা দরকার।”
এদিকে গ্যাসের উৎস নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে। তাদের দাবি, দ্রুত অনুসন্ধান করে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাসের সম্ভাবনা নিশ্চিত করা হোক।
ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. হাকিম মিয়া বলেন, এ এলাকার মাটির নিচে অনেক প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। কারণ তিনটি জায়গা খনন করার সময়ই গ্যাস বের হয়েছে। তাই সরকারি লোকজন এসে এখানে দেখুক কতটুকু গ্যাস মজুদ আছে। এগুলো উত্তোলন করা যায় কিনা।
রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হযরত আলী বলেন, “গ্যাস পাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পেয়েছি। পরে ইউএনওকে অবগত করে ভিডিও পাঠিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।

“কখন কী হয় তা বলা মুশকিল। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে এর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কারণ আগুন দিলে হুঁ-হুঁ করে গ্যাস বের হয়। আবার ফুঁ দিলেই আগুন নিভে যায়।”
গ্যাস বেরোনোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন ইউএনও ফারজানা আক্তার ববি।
শেরপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেন বলেন, “প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের বিষয়টি দেখেন পেট্রোবাংলা। এলাকায় মাঝে মধ্যে এমন গ্যাসের সন্ধান মেলে। সাধারণত এ ধরনের গ্যাসের স্থায়িত্ব অল্প সময় হয়।
“তবে উন্মুক্ত জায়গায় মাটির নিচে আগুন দেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”