মামলার ভয় দেখিয়ে ‘সন্তান বিক্রির’ টাকায় ‘ভাগ বসালেন’ ২ এসআই
“পুলিশ আমাদের কাছ থেকে সন্তান বিক্রির ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে।”
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় এক নারীর ‘সন্তান বিক্রির টাকায় ভাগ বসানো’র অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে তাদের প্রত্যাহার করে ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার চৌগাছা থানার এসআই শামীম হোসেন ও সৈয়দ আশিকুর রহমানকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন জানান।
তিনি বলেন, “উপজেলার এক নারী সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে বিক্রি করে দেন। তাকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এসআই শামীম ও আশিকুরের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় তাদের দুইজনকে প্রত্যাহার করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
সন্তান বিক্রির ঘটনাটি ঘটেছে চৌগাছা উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আন্দুলিয়া গ্রামে।
সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মহিদুল ইসলাম বলেন, “ওই গ্রামের এক ব্যক্তি এক বছর আগে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হন। বর্তমানে তিনি ভারতের কারাগারে রয়েছেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রীর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং সন্তান সম্ভবা হন। কিন্তু ওই যুবক তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
“এরপর ওই নারী স্বামীর বাড়ি ছেড়ে উপজেলার পুড়াপাড়া বাজারে ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। এ অবস্থায় গত ২ অক্টোবর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন।
ইউপি সদস্য আরও বলেন, “সন্তানটি তিনি উপজেলার টেঙ্গুরপুর গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর ২৪ অক্টোবর বৈঠক ডেকে ওই নারীর সঙ্গে যুবকের বিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সন্তানটিকে নেওয়া ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ৪ অক্টোবর তিনি আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে দত্তক নিয়েছেন। টাকার বিনিময়ে শিশু কেনা-বেচা হয়নি। তাদের সাময়িক খরচের জন্য কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে।
এসব ঘটনা জেনে চৌগাছা থানার এসআই শামীম তাদের কাছে যান এবং মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন বলে ওই নারী ও তার সদ্য বিবাহিত স্বামী জানান।
এ বিষয়ে ওই নারী বলেন, “পুলিশ আমাদের কাছ থেকে সন্তান বিক্রির ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে।”
চৌগাছা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জেনে যান। এরপর তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে।
তবে এসআই শামীম হোসেন ও সৈয়দ আশিকুর রহমান দাবি করেছেন, মিথ্যা অভিযোগে তাদেরকে ক্লোজ করা হয়েছে।
