Published : 19 Mar 2026, 01:14 PM
বগুড়ার সান্তাহারে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় ট্রেন চলাচল শুরু হয় বলে সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা খানম জানিয়েছেন।
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে বুধবার সকাল পৌনে ৭টায় ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি যাওয়ার জন্য ছাড়ে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’। বেলা ২টার দিকে ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশনে থামে, সেখান থেকে তিলকপুর স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
কিছু সময় পর আদমদিঘি উপজেলার বাগমারি এলাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের নয়টি বগি লাইন থেকে বেরিয়ে যায়।
এতে সারাদেশের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ৫ জেলা- নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভয়ঙ্কর ভোগান্তিতে পগে ঈদে ঘরমুখো মানুষ।
সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা খানম বলেন, “বুধবার রাত থেকে উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়। বেলা ১২টায় ওই রেলপথ দিয়ে খুলনাগামী সীমান্ত ট্রেন নির্বিঘ্নে সান্তাহার স্টেশনে পৌঁছায়।”
বুধবার ট্রেন দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই হুড়োহুড়ি করে নামার চেষ্টা করেন।
তখন স্থানীয়রা বলেন, দুর্ঘটনার সময় লাইনে মেরামতের কাজ চলছিল। লাল পতাকা টানানো হয়েছিল এবং সিগন্যালও দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রেন সিগন্যাল অমান্য করে লাইনে প্রবেশ করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।
পরে রেলওয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতে আহত হয় ৬৬ জন। এর মধ্যে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন। ৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ছয় জনকে বগুড়া আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যন্ত্র প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান সংকেত প্রকৌশলী।