শরীয়তপুরে ক্ষেতের আইলে পড়েছিল কৃষকের লাশ, পরিবারের দাবি হত্যা
উদ্ধারের সময় তার মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল বলে দাবি স্বজনদের।
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ক্ষেতের আইল থেকে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের আদাশন এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডামুড্যা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম।
নিহত মামুন শেখ (৫৫) ওই এলাকার প্রয়াত ইউসুফ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে মামুন শেখের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই আবুল শেখ ও মালেক শেখের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পর একটি জমি মামুন শেখের পরিবার ফিরে পায়।
এদিন সকাল ১০টার দিকে ওই জমিতে সার ও কীটনাশক দিতে বাড়ি থেকে বের হন মামুন। বিকালে দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পান, জমির আইলের পাশে তিনি পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধারের সময় তার মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল বলে দাবি স্বজনদের।
মামুন শেখের বড় ছেলে রাকিব বলেন, সকালে বাবার সঙ্গে কথা বলে তিনি মডেরহাট বাজারে যান। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পান, তার বাবা জমির আইলের পাশে পড়ে আছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবার মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পান তিনি।
তিনি বলেন, “আমাদের একটি জমি আবুল শেখ ও মালেক শেখ জোর করে দখল করে নিয়েছিলেন। পরে মীমাংসার মাধ্যমে আমরা জমিটি ফিরে পাই। ওই জমিতে কীটনাশক দিতে গিয়েছিলেন বাবা। ধারণা করছি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।”
কান্না জড়িত কণ্ঠে মামুন শেখের স্ত্রী আসমা বেগম বলেন, “আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে ওরা। আমি বিচার চাই।”
অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল শেখ বলেছেন, “ওই জমিটি আমরা অনেক বছর আগে তার কাছ থেকে কিনেছিলাম। কয়েকদিন আগে তিনি (মামুন শেখ) জোর করে জমিটি দখল করে নেন।
“সকালে আমি কর্মস্থলে চলে যাই। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে শুনি আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক গাজী মোহাম্মদ নাহিদুস সালাম বলেন, রোগী হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছে। এরপরও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইসিজি করা হয়। সেখানেও একই ফল পাওয়া যায়।
ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লাশ পুলিশ হেফাজতে আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
