২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭ কার্তিক ১৪৩৩

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

মারুফ বেপারি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা এলাকার বাসিন্দা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Oct 2026, 08:02 PM

Updated : 22 Oct 2026, 08:02 PM

দক্ষিণ আফ্রিকায় শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।

বুধবার রাত ১০টার দিকে দেশটির কেপটাউনের বুস্টার এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন উপজেলার সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন।

বৃহস্পতিবার মারুফের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।

ডামুড্যা থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়েছেন তিনি। আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

নিহত মারুফ বেপারি উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা এলাকার প্রয়াত আব্দুস সোবহান বেপারির ছেলে। তার তিন সন্তান রয়েছে।

স্বজনরা জানান, জীবিকার তাগিদে মারুফ বেপারি দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। সেখানে ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তিনি। দেশটির বুস্টার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় একটি গোষ্ঠী মারুফের কাছে প্রতি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকান ৫০০ র‍্যান্ড দাবি করতেন।

সম্প্রতি চাঁদার টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে মারুফের বিরোধ হয়। এর জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয় প্রবাসীদের। তার মৃতদেহটি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে রয়েছে। দ্রুত লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা।

মারুফের ভাইয়ের ছেলে কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, “আফ্রিকার ওই এলাকায় ব্যবসা করলে স্থানীয় চাঁদাবাজদের প্রতি মাসে ৫০০ র‍্যান্ড দিতে হয়। আমার কাকা তিন মাসের মধ্যে এক মাস দোকান চালিয়েছেন, বাকি দুই মাস বন্ধ ছিল। তাই তিনি শুধু এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন।

“এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ওই গোষ্ঠীর লোকজন চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে কাকাকে গুলি করে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে যেন তার মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”

প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন বলেন, “বাংলাদেশ থেকে যারা প্রবাসে যায় তারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তারা সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠায়। তাদের নিরাপত্তা দেওয়াটা সরকারের দায়িত্ব।

“তারা যেহেতু বৈধভাবে ব্যবসা করেন, সেখানে চাঁদা দাবি করা অনৈতিক। ওইসব দেশে দূতাবাসগুলোর সঙ্গে কথা বলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা দেওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।”