বগুড়ায় ২ শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামির ৬০ বছরের কারাদণ্ড
দুটি মামলায় তাকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বগুড়ায় ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের মামলায় এক ব্যক্তিকে ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
একই সঙ্গে দুটি মামলায় তাকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী দুই শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মারুফ হোসেন এ রায় দেন।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মারুফ হোসেন এ রায় দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আব্দুল মান্নান জানান।
দণ্ডিত ৪০ বছর বয়সী নুর ইসলাম কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের আড়োলা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ আড়োলা আবাসন প্রকল্পে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে খাবার ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণ করেন নুর ইসলাম। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরদিন এক শিশু জ্বরে আক্রান্ত এবং অন্য শিশুর তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।
এ ঘটনায় এক শিশুর মা বাদী হয়ে কাহালু থানায় মামলা করেন। পুলিশ দুই শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
পরে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১০ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দুই শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।
পিপি আব্দুল মান্নান বলেন, “আদালত সার্বিক বিষয় ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে দুটি পৃথক মামলায় নুর ইসলামকে ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
“আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার এক লাখ টাকা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগী দুই শিশুর পরিবারকে দেওয়া হবে।”
রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।
