বান্দরবানে ধর্ষণ মামলায় সৎ বাবার যাবজ্জীবন

দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে মেসাচিং মারমা ছোট মেয়েসহ রোয়াংছড়িতে আপুই মং মার্মার সঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন।

বান্দরবান প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 March 2024, 02:31 PM
Updated : 27 March 2024, 02:31 PM

বান্দরবানে সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বুধবার বান্দরবানের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ বিচারক জেবুন্নাহার আয়শা আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) বাসিংথুয়াই মারমা জানান।

দণ্ডিত আপুই মং মারমা (৬৮) রোয়াংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড

থোয়াই অংগ্য পাড়ার বাসিন্দা।

যাবজ্জীবনের পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় রায়ে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্রথম স্বামী মারা যাবার পর প্রায় ১৭ বছর ধরে আপুই মং মারমার সঙ্গে সংসার করছেন মেসাচিং মারমার। তার প্রথম সংসারে দুজন মেয়ে ও তিনজন ছেলে রয়েছে।

দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই মেসাচিং মারমা তার তিন বছরের ছোট মেয়েসহ রোয়াংছড়িতে আপুই মং মার্মার সঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন।

২০২০ সালে মেসাচিং মারমা অসুস্থ হলে ছোট মেয়েকে রেখে রাঙামাটির রাজস্থলী এলাকায় তার বড় মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে তিন মাসের মত ছিলেন।

ফিরে আসলে তার স্বামী আপুই মং মারমা তাকে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। ২০২১ সালের ২ জুলাই একটি কন্যা সন্তানসহ মেসাচিংয়ের ছোট মেয়ে তার বড় ভাইয়ের বাড়িতে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

ওই মেয়ে তার তার ভাইকে জানান, তার মা চলে যাবার পর থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তার সৎ বাবা আপুই মং মারমা তাদের নির্জন বাগান বাড়িতে নিয়ে গিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে একাধিক বার তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। যার ফলে কন্যা শিশুটির জন্ম হয়।

পরে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির মা বাদী হয়ে ২০২১ সালের ৮ জুলাই রোয়াংছড়ি থানায় আপুই মং মারমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেয়।