Published : 26 May 2026, 01:20 PM
কুচকুচে কালো রঙের সুঠাম গঠনের দেহের মাথা ও শরীরের নিচের অংশে সাদা ছাপ, উচ্চতায় প্রায় ৭ ফুট ও দৈর্ঘ্যে ১০ ফুট, ওজনেও এক টনের বেশি- এমন রাজকীয় অবয়বের কারণেই ষাড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সম্রাট’।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেডে লালন-পালন করা ষাড়টি তাই শুধু খামার নয় বরং জেলা জুড়েই আলোচনার জ্ন্ম দিয়েছে।
বিশাল আকৃতির ফ্রিজিয়ান জাতের আকর্ষণীয় এই ষাঁড়টির মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারের জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহিন হোসাইন।
তিনি বলেন, “ষাঁড় ‘সম্রাট’-কে সন্তানের মতো মমতায় বড় করা হয়েছে। এটি শুধু একটি গবাদিপশু নয়, আমাদের পরিবারের সদস্য এবং খামারের অন্যতম আকর্ষণ।”

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, ১ হাজার ১০০ কেজির বেশি ওজনের সম্রাটকে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হচ্ছে। তার খাবারের তালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, খড়-ভুষি, ভুট্টা, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, ধানের কুঁড়া ও আতপ চালের ভাত।
প্রতিদিন তার খাবারের পেছনে ব্যয় হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি পরিচর্যার জন্য কর্মীদের বিশেষ দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে। নিয়মিত গোসল, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হয় ষাড়টির জন্য।
‘সম্রাট’-এর জন্য খামারে আলাদা শেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহিন হোসাইন জানান, শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেড-এ চলতি বছর কোরবানির জন্য মোট ৮৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব পশুর সর্বনিম্ন ওজন ৪০০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ওজন ১ হাজার ১০০ কেজি। প্রতিটি গরুর মূল্য লাখ টাকার ওপরে।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, কোরবানির ঈদের জন্য এসব গবাদি পশু অধিকাংশই চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ী এলাকায় নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র থেকে বিক্রি করা হয়।

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ের খামারগুলোতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়। এখানে ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। ফলে পাহাড়ের গরুর মাংস স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় সমতলের বাজারেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলী আজম বলেন, “এ বছর খাগড়াছড়ি জেলায় ২ হাজার ৫৮৭টি খামারে মোট ১৮ হাজার ১৬৮টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলার চাহিদা ১৩ হাজার ১১০টি হলেও অতিরিক্ত রয়েছে ৫ হাজার ৫৮টি পশু। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব পশু দেশের বিভিন্ন সমতল জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।