১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঋণ পরিশোধে টাকা লুট করতে মুক্তিযোদ্ধা ও স্ত্রীকে হত্যা: পুলিশ

ঘটনার দুইদিন আগে রংপুরের তারাগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে টাইলসের কাজ করেছিলেন মোরসালিন।

রংপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Dec 2025, 06:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:18 PM

আট হাজার টাকার মতো ঋণ পরিশোধ করতেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি থেকে টাকা লুটের পরিকল্পনা ও দুজনকে হত্যা করেছেন যুবক, দাবি পুলিশের। 

রংপুরের তারাগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন। 

আটক মোরসালিন (২২) তারাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি টাইলস মিস্ত্রীর সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। 

বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শেরমস্ত বালাপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোরসালিন হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি দা উদ্ধার করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়াল উদ্ধারে অভিযান চলছে।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “মোরসালিনের আট হাজার টাকার মতো ঋণ ছিল। সে ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে তিনি যোগেশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন। 

“পরিকল্পনা মতে মোরসালিন শনিবার রাতে ওই বাড়িতে ঢুকে। পরে তিনি সঙ্গে নিয়ে আসা কুড়াল দিয়ে প্রথমে সুবর্ণা ও পরে যোগেশ চন্দ্র রায়কে কুপিয়ে হত্যা করেন।”

পুলিশ সুপার আরও বলেন, “দুজনকে হত্যার পর বাড়িতে থাকা দা দিয়ে আলমারির তালা ভাঙেন। তবে সেখানে কোনো টাকা পাননি বলে মোরসালিন পুলিশকে জানিয়েছে।

“এরপর দেয়াল টপকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং যাওয়ার সময় পুকুরে কুড়াল ফেলে দেন।”

এর আগে ৬ ডিসেম্বর রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে খুন হন মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী সুবর্ণা রায়।

পরদিন রোববার ভোরে ডাকাডাকির পরও দরজা না খুললে প্রতিবেশী দীপক মই লাগিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। রান্নাঘরে সুর্বণা রায়ের এবং শোবার ঘরে যোগেশ চন্দ্র রায়ের মরদেহ দেখতে পেয়ে তিনি স্থানীয়দের খবর দেন।

৭৫ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় স্থানীয় চাকলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন। দুই ছেলে অন্য জেলায় চাকরিরত থাকায় তিনি ও তার স্ত্রী তার স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০) শুধু গ্রামের বাড়িতে থাকতেন।

তাদের হত্যার ঘটনায় বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

আগের সংবাদ

রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও স্ত্রী হত্যায় গ্রেপ্তার ১

রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা