Published : 20 Nov 2025, 08:06 PM
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ‘গায়েবি মামলা’ দায়েরের অভিযোগ করে তা বাতিলের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় ৩ ঘণ্টা উপজেলার দক্ষিণ মুসরত মদাতির বটতলা এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে চলা এ অবরোধে মামলার আসামিদের স্বজনসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১২ নভেম্বর কালীগঞ্জ থানার এসআই হাফিজুর রহমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ৪০-৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করেন।
মামলায় ১১ নভেম্বর রাতের একটি ‘মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনার’ ঘটনার কথা উল্লেখ থাকলেও সেটি ওই এলাকায় ঘটেনি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
মানববন্ধনে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, “এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। ঘটনাস্থলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ মানুষকে হয়রানির জন্য এমন মামলা করা হয়েছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আসাদ আলী বলেন, “প্রভাবশালীদের নাম নেই, অথচ নিরীহ মানুষের নাম ঢোকানো হয়েছে।”
একই অভিযোগ করেন এলাকার শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, গৃহিণী সাফিয়া বেগম ও লিমা খাতুনসহ অন্যরা।
তাদের অভিযোগ, ভোটমারি ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আফজাল হোসেন ও যুবদল নেতা জিন্নুন পুলিশের সঙ্গে ‘যোগসাজশে’ মামলা বানিয়েছেন। পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু নিরীহ মানুষের নাম মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।
মামলায় কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম থাকলেও প্রভাবশালী নেতাদের নাম নেই; বরং দিনমজুর, খেটে-খাওয়া ও রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া আসামিদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করা হচ্ছে এবং টাকা দিলে নাম কেটে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
এই মামলার আসামি ইঞ্জিনিয়ার মেজবাউদ্দিন বিপ্লব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনার দিন আমি ঢাকায় আমার বাসায় ছিলাম। দুই মাস ধরে লালমনিরহাটেও যাইনি।”
এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আফজাল হোসেনের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমে কল রিসিভ হলেও পরে তিনি আর ফোন ধরেননি।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, “১১ নভেম্বর রাতে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা ‘শাহীন মেম্বারের’ নেতৃত্বে কিছু লোকজন সরকার উৎখাতের উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল করছিল- এমন সংবাদে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানো হয়েছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, “মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। আমাদের কাছে এখনো এমন কোনো অভিযোগ আসেনি যে নিরীহ কেউ জড়িত রয়েছে। তদন্ত শেষে রিপোর্টে বিষয়টি যাচাই করা হবে।”