১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ২৯ এপ্রিল

নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ২৯ এপ্রিল
হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্কুলছাত্রীর সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Apr 2026, 02:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:25 PM

নোয়াখালীর আলোচিত স্কুল ছাত্রী হত্যা মামলার রায়ের তারিখ পিছিয়ে ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করেছে আদালত। 

বুধবার বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এই তারিখ নির্ধারণ করেন বলে জানিয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এমদাদ হোসেন কৈশোর। 

তিনি বলেন, বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও এজলাসে বসেই রায়ের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেছেন বিচারক। 

ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি (পিপি) মো. সেলিম শাহী বলেন, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার একটি বাসা থেকে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর  গলা ও হাত, পায়ের রগ কাটা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পরে তার মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে স্কুলে যায় ছাত্রী। পরে ১২টার দিকে প্রাইভেট শেষে সে বাসায় ফিরে একাই ছিল। সন্ধ্যায় তার মা ফিরে ঘরের মূল দরজায় তালা দেখতে পান। 

তালা খুলে ভেতরে ঢুকে সামনের কক্ষের আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। অন্য রুমের বিছানায় মেয়ের অর্ধনগ্ন, গলা ও দুই হাতের রগ কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। 

এ ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ও  স্কুলছাত্রীর সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিসহ (৩০) চারজনকে গ্রেপ্তার করে। 

পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন রনি।  জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থ ীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ।

মামলাটি তদন্তের পর অন্যদের অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় বাদী পক্ষের ৪১ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এছাড়া আসামি পক্ষের ৫ জন সাফাই সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারক।

আলোচিত এ হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।

স্কুল ছাত্রীর মা ও মামলার বাদী বলেন, “আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি চাই, যেন এটা একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।”

এদিকে মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে একমাত্র আসামি আব্দুর রহিম রনিকে জেলা কারাগার থেকে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে হাজির করা হয়। পরে রায় পেছানোর ঘোষণায় রনিকে আবার জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।