Published : 09 Dec 2025, 06:48 PM
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় এক চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; যিনি ঘটনার সময় প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখেছিলেন বলে দাবি স্বজনদের।
সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার টেকেরহাট বন্দরের শিমুলতলা এলাকার নূর জাহান কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয় তলার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান রাজৈর থানার ওসি শেখ আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
পুলিশ ও স্বজনরা বলেন, প্রায় আট বছর ধরে টেকেরহাট সিটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন অনিক। ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সেখানে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি। তার সঙ্গে পাশের রুমে থাকতেন ওই হাসপাতালের এক্স-রে অপারেটর নৃপেন।
সোমবার রাতে প্রতিদিনের মত রোগী দেখে অনিক বাসায় যান। আর নৃপেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গানের অনুষ্ঠানে যান। রাত ১১টার দিকে প্রেমিকার সঙ্গে ঝগড়া করে তাকে মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে রেখে গলায় রশি বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস নেন অনিক। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নৃপেন বাসায় গিয়ে চা খাওয়ার জন্য তাকে ডাকতে যান। দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁকা দিয়ে অনিককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
তাৎক্ষণিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে খবর দেন নৃপেন। পরে রাজৈর থানা পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মৃতদেহটি উদ্ধার করেন। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়।
অনিকের মা চিনু আচার্য বলেন, বিয়ের আগে থেকে এক মেয়ের সঙ্গে তার ছেলের সম্পর্ক ছিল। ওই মেয়ের জন্য তার ছেলে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। আর যেন কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয় বলে আকুতি করেন তিনি।
সিটি হাসপাতালের মালিকপক্ষ আনিসুর রহমান বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে আট থেকে ১০ বছর ধরে কাজ করতেন অনিক। রাতে প্রেমিকার সঙ্গে ঝগড়ার জেরে তাকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছেন অনিক।”
ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রেমঘটিত কারণে মোবাইলে ভিডিও কলে রেখে ওই চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।