Published : 13 May 2026, 05:32 PM
চুয়াডাঙ্গায় আটি, গুটি ও বোম্বাই জাতের আম সংগ্রহ করার মধ্যদিয়ে আম সংগ্রহ মৌসুম শুরু হয়েছে।
বুধবার শহরের মহলদার আম্রকানন বাগানে গাছ থেকে আম পেড়ে চলতি আম মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
আম ব্যবসায়ী ও আম আম বাগান মালিক সমিতিরে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে তিনি মহলদার আম বাগান পরিদর্শন করেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলায় প্রায় ৩০ হাজার ৮৪২ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলার আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৩ মে থেকে আম সংগ্রহ মৌসুম শুরু হলো। আটি, গুটি ও বোম্বাই এর পর পর্যায়ক্রমে ২০ মে হিমসাগর, ২৫ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি, ১৫ জুন ফজলি, ২০ জুন হাড়িভাঙা, ২২ জুন ব্যানানা, ৩০ জুন আশ্বিনা ও বারি-৪, ৫ জুলাই কাটিমন এবং ৩১ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ শুরু হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, “ফলের রাজা আম। অপরিপক্ক আম যাতে কোনো বাগান মালিক সংগ্রহ না করে সেই ব্যাপারে কৃষি বিভাগ তদারকি করবে।
“পরিপক্ব আম যাতে বাজারে আসে এবং নিরাপদ আম ও রাসায়নিক মুক্ত আম বাজারে বিক্রি হয়, সেই ব্যাপারে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এই মৌসুমেও জেলার উৎপাদিত আম সারাদেশের চাহিদা মিটাতে সক্ষম হবে।'
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, “নির্ধারিত ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। ক্যালেন্ডারের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
আমের গুণগত মান ও রাসায়নিকযুক্ত আম যাতে বাজারে না যায় সেজন্য হুশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ জন্য জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত বাজার তদারকি করবে বলেও জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (উদ্যান) দেবাশীষ কুমার দাস, সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল শামীম, চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, সহ-সভাপতি আব্দুল করিমসহ স্থানীয় চাষী ও ব্যবসায়ীরা।