Published : 19 Dec 2025, 12:34 PM
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির স্মৃতি রক্ষার্থে শাহবাগে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।
হাদির মৃত্যুর খবর শুনে শুক্রবার সকালে তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি শহরের খাসমহলের বাসায় আত্মীয়-স্বজনরা ছুটে আসেন। হাদির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাদির হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
হাদির বাসায় পরিবারের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে এখন তার ছোট বোন মাছুমা সুলতানা বিন হাদি ও ভগ্নিপতি আমির হোসেন হাওলাদার অবস্থান করছেন।
শুক্রবার সকালে আমির হোসেন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, “হাদির উত্থান হয়েছিলো শাহবাগে। সেই শাহবাগে যেনো একটি স্মৃতিস্তম্ভ করা হয়
“আর ওর যে কাব্যগ্রন্থ আছে সেগুলো যেনো পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ওর জীবনী যেনো স্কুলে কলেজে সংযুক্ত করা হয়।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদির উপর আক্রমণ হয়। ওই সময় মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
হাদির ছোট বোন জামাই বলেন, “সারাদেশের মানুষ ওরে (হাদি) যেভাবে ভালোবাসতো সেই ভালোবাসা এমনি এমনি সৃষ্টি হয়নি; সেটা তার অর্জন ছিল। পরিবারের সবার কাছে হাদি ছিল অত্যন্ত স্নেহের ও আদরের। এলাকাবাসীর কাছেও প্রিয় ছিল হাদি।
হাদির হত্যাকারীকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়ে আমির হোসেন হাওলাদার বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত বিচার করা না হবে ততক্ষণ আমরা থামবো না। আমাদের কোনোভাবেই সান্ত্বনা দেওয়া যাবে না। কারণ আমরা যে হাদিকে হারিয়েছি সেই হাদিকে ৫৫ বছরে জন্ম নেবে না।”
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মরদেহ শুক্রবার সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্যসচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানান।
শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বাদ জোহর হাদির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।
হাদির মৃতদেহ নলছিটিতে এনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে মৃতদেহ কখন নলছিটিতে নিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি পরিবার।
এদিকে হাদির মৃত্যুর ঘটনায় জাড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তার প্রতিবেশীরা। জুলাই বিপ্লবের পরে হাদির মতো একজন বীরযোদ্ধাকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হলো না, এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
হাদির দাফনের বিষয়ে বোন জামাই আমির হাওলাদার বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ঢাকায় আসার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হাদির লেখালেখিতে আমরা লক্ষ্য করেছি, যদি কেউ ওকে মেরে ফেলে তাহলে তার বাবার পাশে কবরটা দেওয়ার কথা বলেছেন।”
শরীফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিতি পান।