Published : 17 Aug 2025, 09:38 PM
কুড়িগ্রাম-চিলমারী রেলপথে লাইনচ্যুত হওয়া লোকাল ট্রেনকে উদ্ধার করতে আসা রিলিফ ট্রেনটিও লাইনচ্যুত হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে উলিপুরে লাইনচ্যুত হয় রমনা লোকাল ট্রেন। পরে ওই ট্রেন উদ্ধারে লালমনিরহাট থেকে আসা রিলিফ ট্রেনটিও বিকেল সাড়ে ৪টায় লাইনচ্যুত হয় বলে জানিয়েছেন ট্রেন দুটির পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন।
রসুলপুর এলাকায় চিলমারীর বালাবাড়ি রেল স্টেশনের উত্তরে লাইনচ্যুত হয় রমনা লোকাল ট্রেন।
পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় লালমনিরহাট থেকে ওই ট্রেন উদ্ধারে আসা রিলিফ ট্রেনটিও উলিপুরের পাঁচপীর রেলস্টেশন পার হওয়ার পর লাইনচ্যুত হয়।

পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা রমনা লোকাল ট্রেনের পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “চিলমারীর রমনা স্টেশনে যাওয়ার পথে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের বালাবাড়ি স্টেশনের কাছাকাছি রসুলপুর এলাকায় পৌঁছালে গার্ড ব্রেকের বগির চারটি চাকা লাইনের বাইরে চলে যায়।”
তিনি বলেন, “উলিপুরের পাঁচপীর স্টেশন থেকে চিলমারী পর্যন্ত রেললাইনে কোথাও পাথর নেই। ফলে ঘণ্টায় মাত্র ১২ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হলেও লাইনচ্যুত হয়। ”
ট্রেনটি দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে রমনা স্টেশন থেকে রংপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে রিলিফ ট্রেনের পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, “কুড়িগ্রাম-চিলমারী রেলপথে ট্রেন লাইনচ্যুতের খবরে সাতটি বগি নিয়ে লালমনিরহাট থেকে উদ্ধারকারী ট্রেনটি রওনা দিয়েছিল।
“পরে বিকালে পাঁচপীর ও উলিপুর স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছেই সেটিও লাইনচ্যুত হয়। সন্ধ্যায় রিলিফ ট্রেনটি পুনরায় লাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে এটি উলিপুর স্টেশনে অবস্থান করছে।”

রোববার বিকালে সরেজমিনে পাঁচপীর রেল স্টেশন এলাকায় দেখা যায়, দীর্ঘ রেলপথের কোথাও পাথর নেই। পুরো রেলপথ মাটির ওপর দিয়ে বিছানো। অনেক জায়গায় স্লিপার মাটির নিচে দেবে গেছে।
কোথাও কোথাও রেললাইনের নিচের জমি থেকে মাটি এনে ফেলা হলেও গাইড ওয়ালের অভাবে মাটি বৃষ্টির পানিতে নিচে নেমে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট একব্যক্তি জানান, পাঁচগাছী স্টেশন থেকে রমনা স্টেশন পর্যন্ত রেলপথটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারে সীমিত করা হলেও স্বাভাবিকভাবে ট্রেন চালানো যাচ্ছে না। জরুরি সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
লালমনিরহাট রেল বিভাগের বরাতে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেলপথ সংস্কারে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান সংস্কারের দায়িত্ব পায়।

কিছু এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রেললাইন, স্লিপার বা পাথর বসানোর কাজ শুরু হয়নি। শুধু কিছু মাটি ভরাট ও কয়েকটি সেতু মেরামত করা হয়েছে। ফলে রেলপথটি ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বিশ্বাস কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার রুবেল মিয়া বলেন, “স্লিপার সংকটে রেলপথ সংস্কার কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। তবে আগামী মাসে কিছু স্লিপার আসার কথা রয়েছে। সেগুলো পেলে দূর্গাপুর থেকে উলিপুর পর্যন্ত রেলপথের কাজ শেষ হবে।”
লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা আলম সন্ধ্যায় বলেন, “চিলমারী-রমনা বাজার স্টেশন রেলপথটি সংস্কারের কাজ চলছে। সেখানের রেললাইনের পাথর সরিয়ে স্লিপার বসানোর কাজ চলমান রয়েছে। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “রেলপথ প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই রেলপথ আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল উপযোগী হবে।”