Published : 04 Feb 2025, 05:22 PM
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে তাবলিগের শুরায়ী নেজাম বা মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীদের দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমার দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম চলছে।
এদিকে দ্বিতীয় ধাপে অংশ নেওয়া আরও একজনের সোমবার রাতে মৃত্যু হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা সাত জনে দাঁড়াল।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ তাবলিগ জামাত শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত ব্যক্তির নাম আমীর হোসেন। তার বয়স ৬৫ বছর। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর থানার বাসিন্দা।
হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, “সোমবার রাত ১১টায় ৩১ নম্বর খিত্তায় আমীর অসুস্থ হয়ে মারা যান। মঙ্গলবার বাদ ফজর ইজতেমা ময়দানে তার জানাজা হয়।
“এ নিয়ে প্রথম পর্বের প্রথম ধাপে ৫ জন ও দ্বিতীয় ধাপে ২ জনের মৃত্যু হল। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৭ জনে দাঁড়িয়েছে।”
মাওলানা জোবায়েরের অনুসারী ইজতেমা আয়োজকেরা জানান, মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সকালে সরেজমিন দেখা যায়, তুরাগতীরের ইজতেমা মাঠের বিশাল শামিয়ানার ভেতর অবস্থান করছেন বহু মানুষ। মাঠে পাটি ও চট দিয়ে বিছানা পেতে বা নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়ে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে বয়ান শুনছেন তারা। কেউ ব্যস্ত রান্নায়; কেউ অজু ও গোসলের কাজ সারছেন।
বুধবার সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম পর্বের দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমা। মোনাজাতে অংশগ্রহণকারী ও ইজতেমা শেষে ২২ জেলার মানুষের বাড়ি ফেরাদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ১১টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে রেলওয়ে বিভাগ।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে ভোর থেকে মোনাজাত শেষ না পর্যন্ত টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের আশেপাশের মহাসড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
বাংলাদেশ তাবলিগ জামাত শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, বুধবার বাদ ফজর বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা উবায়দুল্লাহ খুরশিদ। সকালে তালিমের মোজাকারা (আলোচনা) করেন ভারতের মাওলানা জামাল সাহেব। পরে খিত্তায় খিত্তায় তালিম করা হয়। সকাল পৌনে ১০টায় বয়ান মিম্বারের সামনে ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে কথা বলেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা সাহেব।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান বলেন, বুধবার আখেরি মোনাজাতের পর ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ১১টি বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বনলতা, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, সুবর্ণলতা, পর্যটক এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা-এই পাঁচটি বিশেষ ট্রেন ছাড়া টঙ্গি স্টেশনে সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। বুধবার ভোর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাপুর পর্যন্ত মহাসড়কে আখেরি মোনাজাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এদিতে রোববার মোনাজাতের সময় একটি সাধারণ ড্রোনের ধাক্কায় বেলুন ফুটে আতঙ্ক তৈরি হয়। তাই গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা মাঠের দুই কিলোমিটারের মধ্যে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ।