১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’, ‘ভুক্তভোগী’ তরুণী ও বাদী সাক্ষ্য দেননি

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে (২০) ‘দলবেঁধে’ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’, ‘ভুক্তভোগী’ তরুণী ও বাদী সাক্ষ্য দেননি
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের আদালত  থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 May 2025, 09:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:42 PM

সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণের’ মামলায় একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

মঙ্গলবার দুপুরে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির মামলায় এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় বলে জানিয়েছেন ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। এর আগে মামলাটি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল। দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হৃদয় পারভেজ নামের এক ব্যক্তি সাক্ষ্য দেন। তিনি এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ২০৫ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। বর্তমানে তিনি পড়াশোনা শেষ করে ছাত্রাবাস ছেড়েছেন। আদালতে তার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আট আসামি উপস্থিত ছিলেন।

আবুল হোসেন বলেন, “তবে মঙ্গলবার আদালতে তিনজনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতে মামলার বাদী ও ঘটনার শিকার ভিকটিম উপস্থিত হননি। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৯ মে দিন নির্ধারণ করেছেন। মামলার দুই সাক্ষী অনুপস্থিত থাকায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে রাষ্ট্রপক্ষ  ও সিলেটের শাহপরান থানার ওসি নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।”

এ বিষয়ে সিলেটের শাহপরাণ থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, “সোমবার মামলার বাদীর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় পুলিশ পাঠিয়ে তাদের আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। সকালেও তারা মোবাইলে জানায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে যাবেন। কিন্তু ওই তরুণী আর তার স্বামী আদালতে যাননি।

“মামলার আরেক সাক্ষীকে সুনামগঞ্জ থেকে আনা হয়েছে, তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিচারক এই বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। বিষয়গুলো অবহিত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে (২০) ‘দলবেঁধে’ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তার স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। 

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ ও র‌্যাব। পরবর্তী সময়ে আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

গ্রেপ্তারের পর আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

মামলার  আসামিরা হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে। তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আরও পড়ুন:

এমসি কলেজে ধর্ষণ: দুই অভিযোগের বিচার এক আদালতে করার নির্দেশ

এমসি কলেজে ধর্ষণ: ৮ আসামির বিচার শুরুর আদেশ

এমসি কলেজে ধর্ষণ: বিচারিক তদন্তে কমিটি করে দিল হাই কোর্ট

সিলেটে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার

এমসি কলেজে ধর্ষণ: ২ দারোয়ান বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

এমসি কলেজে গৃহবধূ ধর্ষণ: সাক্ষ্য ফের পেছালো