Published : 26 Sep 2025, 11:02 PM
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদকে নিজ প্রতিষ্ঠানে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ফুঁসেছেন সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
ঘটনার প্রতিবাদে তারা শুক্রবার বিকালে ভূটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে মানববন্ধন এবং বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
পরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদের ওপর হামলাকে ন্যাক্কারজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।
৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাওহা ইউনিয়নের কড়েহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদকে ধাক্কা দিয়ে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিচ্ছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
আরো পড়ুন:
গৌরীপুরে নিজ প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ
ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ১৪-১৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে কলেজ থেকে বের করে দিতে দিতে হত্যার হুমকিও দেন। এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সাবেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নেকবর আলীর সভাপতিত্বে ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম প্রত্যয়ের সঞ্চালনায় মানববন্ধন হয়।
সেখানে বক্তব্য দেন গৌরীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব সুজিত কুমার দাস, অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জায়েদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সদস্য আব্দুল মান্নান তালুকদারসহ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।
বক্তারা বলেন, গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি আজ কলেজে উন্নীত হয়েছে। তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে যেভাবে তাকে লাঞ্ছিত করে বের করা হচ্ছিল তা শুধু শিক্ষক সমাজের নয়, সমগ্র জাতির জন্যই লজ্জাজনক।
লাঞ্ছনাকারী ও তার সহযোগীদের অভিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
গৌরীপুর থানার ওসি মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আনোয়ার হোসেনের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক স্কুল চলাকালীন সেখানে কীভাবে উপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ঘটনার ভিডিও তিনি দেখেছেন। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।